ঘুষের টাকাসহ আটক ওসমানী মেডিক্যালের দুই নার্স কারাগারে

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ (নার্স, পুরুষ) ও বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেককে প্রধান আসামি করে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে আটককৃত আমিনুল ও সুমনকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় এ মামলা করেন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হানিফ। মামলায় প্রধান আসামি হলেন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক। অপর দুই আসামি সিনিয়র স্টাফ (নার্স) মো. আমিনুল ইসলাম ও সুমন চন্দ্র দেব।

এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ঘুষের ৬ লাখ টাকাসহ মামলার অপর দুই আসামি আমিনুল ও সুমনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে আটক করে গোয়েন্দা সংস্থার একটি দল।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বলেন, ‘ওসমানী হাসপাতালের সাদেকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে মামলা হয়েছে। এর আগে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা এই হাসপাতালের সিনিয়র দুই স্টাফকে (পুরুষ) অর্থসহ আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।’

জানা গেছে, সম্প্রতি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ (নার্স) গীতা রানী হালদারের গত আট বছরের প্রাপ্য ৩৪ লাখ টাকা বকেয়া বিল করে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সাদেক। পরে গীতাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও চাপ দিয়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকা দিতে রাজি করান। এরপরে গীতা তাকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা দেন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে সাদেকের দাবি করা বাকি ৬ লাখ টাকা আমিনুলের কাছে জমা দেন গীতা। তখন ডিজিএফআই সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমিনুলকে নগদ ৬ লাখ টাকাসহ আটক করেন। পরে আমিনুলের দেওয়া তথ্যমতে সুমনকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা পুলিশকে জানায়, সাদেকের নির্দেশনায় ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবৎ এসব অবৈধ কাজ করে আসছেন তারা।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘সাদেকের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ওসমানী হাসপাতাল। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ অন্যান্য দফতরে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সাদেককে প্রধান আসামি করে থানায় ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছি।’