সুনামগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে ৯৫টি হাওর রয়েছে। হাওর রক্ষার জন্য আছে ১ হাজার ৭০০ কি.মি. বেড়িবাঁধ। হাওরকে ঘিরে রয়েছে তিশ’র বেশি প্রকল্প চলমান। কিন্তু সঠিক সময়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় না। এতে আগাম বন্যায় ফসল ডুবে যায়। হাওর সংরক্ষণ না হওয়ায় ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে নানা প্রজাতির ধান। হাওরের মিঠাপানিতে সুস্বাদু মাছ এখন আগের মতো পাওয়া যায় না। সুনামগঞ্জকে বাঁচাতে সবার আগে হাওর রক্ষা করতে হবে।
সোমবার (২২ জানুয়ারি) শহরের সার্কিট হাউজের মিলনায়তনে ‘হাওরের বাঁধ: নদী কৃষি ও পরিবেশ সংকট নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও এনজিও সংস্থা এলআরডির যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা বক্তারা বলেন, হাওরে বন্যা দেখা দিলে ফসল ঘরে তোলা যায় না। ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। ২০১৭ সালের বন্যার রিপোর্টে বিশ্ব ব্যাংক বড় সমস্যা হিসেবে সুনামগঞ্জের হাওরকে চিহ্নিত করে। হাওরের বেড়িবাঁধ নির্মাণে মাটি সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে ব্যাহত হচ্ছে বাঁধের কাজ। নদ-নদী থেকে পরিকল্পিতভাবে বালু-পাথর উত্তোলন করতে হবে।
তারা বলেন, দেশের মধ্যে সাতটি জেলা হাওর বিস্তৃত। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে বেশি হাওর রয়েছে। এ অঞ্চলে হাওর মন্ত্রণালয় গঠনেরও দাবি জানান বক্তারা।
পর্যটকরা টাঙ্গুয়ার হাওরে এসে রাত যাপন করেন। এতে বর্জ্য ত্যাগের ফলে মিঠা পানি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আগের মতো মিলছে না মাছ। হাওরে রাত যাপন বন্ধেরও দাবি তোলা হয় আলোচনা সভায়।
পিআইসি প্রকল্প নিয়ে তারা বলেন, যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানেও বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ দিয়ে লুটের আয়োজন করা হয়েছে। এখনও ৯০ ভাগ বাঁধে কাজ শুরু হয়নি। ২০১৭ সালের মতো আগাম বন্যা হয়ে গেলে ভয়াবহ ফসলহানীর শঙ্কা রয়েছে।
বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঞ্চালনায় এবং এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বৌলাই, যাদুকাটা ও টাঙ্গুয়া সুনামগঞ্জ হাওরের অন্যতম নদী। মেঘালয় অঞ্চল থেকে পানির প্রবাহ এসে নদীগুলো ভরে যায়, যা হাওর অঞ্চলে পানির জলাধার তৈরি করে। নদ-নদীর সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে জনজীবন হুমকিতে পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘হাওর রক্ষায় প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ হয়। বাঁধের কাছ থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে বন্যা হলে বাঁধ ভাঙে। নিয়ম হলো, বাঁধের কাছে নলখাগড়ার মতো গাছ লাগানো। তবেই হাওর সুরক্ষা পাবে।’
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাবো প্রশাসনকে এটার উত্তর দিতে হবে। প্রশাসন যখন জলাশয়গুলো লিজ দেয় কাগজে-কলমে অনেক নিয়মনীতি লেখা থাকে। বিল শুকিয়ে মাছ ধরার কারণে লিজ বাতিল হওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল হয় না। পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে এটা থামাতে হবে।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন– জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাসেদ ইকবাল চৌধুরী, পুলিশ সুপার আবুসাঈদ, মৌলভিবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মহিবুল ইসলাম, সিলেট পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আল মাহমুদ, বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আখতার প্রমুখ।