দায়িত্ব ছাড়ার কারণ জানালেন কোটা আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক

চলমান কোটা আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলন হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন আন্দোলনের সিলেট অঞ্চলের সহসমন্বয়ক নূর মো.বায়েজীদ। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রথম থেকে সক্রিয় ভূমিকায় থাকলেও রবিবার (১৪ জুলাই) এই আন্দোলন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে সমন্বয়কের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। সোমবার (১৫ জুলাই) থেকে বায়েজীদ আন্দোলনের কোনও কার্যক্রমেই অংশগ্রহণ করেননি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, নূর মো. বায়েজীদ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

সোমবার বায়েজীদ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আন্দোলন নিয়ে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ইদানীং আমার সমন্বয়ক কমিটির কিছু বন্ধুসহ শাবিপ্রবিতে আন্দোলনের সঙ্গে থাকা অনেক সহকর্মীদের কথাবার্তায় আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, তারা এই আন্দোলনে এসেও তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা বজায় রেখে সরকারবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হতে যাচ্ছেন। যা এই আন্দোলনের মূল মোটিভকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই আমি সজ্ঞানে, চিন্তাভাবনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, আমি আর এই আন্দোলনের সঙ্গে নেই।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই নেতা আরও উল্লেখ করেন, আমি নূর মো. বায়েজীদ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট সহসমন্বয়ক। আজ থেকে আমি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি এবং আমি আমার পদ থেকেও ইস্তফা প্রদান করলাম।

তিনি আরও লেখেন, আমি এটা ভেবেই দুঃখিত যে, বাংলাদেশে মেধার মূল্য কোনও দিন ছিল না। না আছে। থাকবে কি না সেটাও জানি না। এই দেশ সারাজীবন টাকা-ক্ষমতা,পা-চাটাদের হাতেই বন্দি ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। আমি বিশ্বাস নিয়ে আন্দোলনে এসেছিলাম যে, সকল প্রকার দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ ছাত্রসমাজ এই আন্দোলনে যোগদান করেছিলেন নিজ অধিকার আদায়ে, ন্যায়ের পক্ষে থেকে।

পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, অবশেষে ১৯৫২ সালের ভাষাশহীদ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং গাজী হওয়া সকলকে স্মরণ করার মাধ্যমে আমি এই আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ালাম।