‘মানসিক রোগী’ দফতরির নিয়োগ বাতিল, এখনও হাতুড়ি-আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আলিশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি ও প্রহরী সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর আলিশারকুল বিদ্যালয়গামী ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযুক্ত দফতরির নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।  

আলিশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শ্রীমঙ্গল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুলের এসএমসি সভাপতিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ওই দফতরির নিয়োগের চুক্তিনামা বাতিল ও তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। এ ক্ষেত্রে নিয়োগ বাতিলের আদেশ বাস্তবায়ন হলেও মামলা করার আদেশটি বাস্তবায়িত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।

আলিশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার বছর ধরে কর্মরত প্রধান শিক্ষক আছিয়া বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিদ্যালয়ের পিটি (শারীরিক কসরত) শেষে পঞ্চম শ্রেণির চারজন ও ক্লাস ফোরের এক শিক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটায় অভিযুক্ত সুমন মিয়া। এসময় একাধিক মেয়ে শিক্ষার্থীর চুল টেনে ধরে নির্যাতন চালানো হয় বলেও ছাত্ররা জানায়। পঞ্চম শ্রেণির লিজা নামে এক শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, সুমন মানসিক রোগী কিনা জানা যায় না। গত বছরের জানুয়ারি মাসে দফতরি হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পর একাধিকবার সে অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানা যায়। ঘটনার দিনই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এখনও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দফতরি সুমন মিয়ার হাতুড়ি, যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পেটানো হয়েছিল

এদিকে আলিশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি মো. শামসুল হক বলেন, ঘটনাটি আমরা সামাজিকভাবে সমাধান করেছি। দফতরি সুমন মিয়া মানসিকভাবে খুবই অসুস্থ। সে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের মাইন্ড অ্যান্ড ব্রেইন স্পেশালিস্ট ডা. মো. মুবিন উদ্দিনের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আবারও বিদ্যালয়ে যেতে উৎসাহিত করতে শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি পাঠানো হচ্ছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। আরও জানান, আতঙ্ক দূর করার লক্ষ্যেই শনিবার বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের বিশেষ সভা ডাকা হয়েছে। আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের সভার আহ্বান করা হয়েছিল। পরে বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি মো. শামসুল হকের আহ্বানে তা পিছিয়ে শনিবার সকাল ১১টায় করা হয়।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শফিকুল ইসলাম জানায়, বিদ্যালয়ের মাঠে সাধারণ সমাবেশ শেষে ক্লাসে যাত্তয়ার সময় আচমকাই তাদেরকে মারতে শুরু করে সুমন মিয়া। সেদিনের মারে শরীরের নানা স্থানে এখনও ব্যথা জমে আছে। এর পর থেকে ভয়ে সে আর স্কুলে আসছে না।

আলিশারকুল বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসকক্ষ, শিক্ষার্থীদের সিংহভাগ অনুপস্থিত

আহত শিক্ষার্থী লিজা আক্তারের চাচা আবুল কাসেম বলেন, দফতরি সুমনের ভয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছি না আমরা। তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

শ্রীমঙ্গলের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ওই দফতরীর চুক্তিনামা বাতিল করা হয়েছে। আর মামলার বিষয়ে স্কুলের এসএমসি কী করে দেখা যাক। শনিবার বৈঠকের পর সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মানসিকভাবে অসুস্থ সুমন মিয়া গত ৫ মার্চ লোহার হাতুড়ি দিয়ে পঞ্চম শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থী লিজা আক্তার, শিমলা আক্তার, রাসেদা আক্তার, শফিকুল ইসলাম ও নূরুজ্জামান মৌলাদকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত করে। 

আরও পড়ুন— দফতরির হাতুড়ি পেটার ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

/এইচকে/