কমিটি নিয়ে সংঘর্ষের পর সমন্বয়কের হুঁশিয়ারি

অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইলে প্রয়োজনে সশস্ত্র বিপ্লব ফিরে আসবে: সমন্বয়ক

সুনামগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের ছয় জন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিকালে সিলেট থেকে সমন্বয়করা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমন দ্দোজা আহমদ গ্রুপের কর্মী-সমর্থকরা। মতবিনিময় সভায় পদবঞ্চিত ওসমান গনি গ্রুপের সদস্যরা মিলনায়তনে প্রবেশ করতে শিল্পকলা একাডেমির গেটের সামনে এলে উভয় পক্ষ শুরুতে বাগবিতণ্ডা ও পরে একে অন্যের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়।

এ সময় উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হন। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে বিবদমান দুই গ্রুপের ছাত্রদের শান্ত করার চেষ্টা করে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী শিল্পকলা একাডেমির প্রধান ফটক বন্ধ করে আসা যাওয়া বন্ধ করে দেন। ঘটনার পর দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমিতে আসা যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সেনাবাহিনী, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ উভয়পক্ষের ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে মিলনায়তনে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন। এতেও পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম বিকালে সুনামগঞ্জ এসে উভয়পক্ষকে শান্ত করে আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যা নিরসনের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পদবঞ্চিত গ্রুপের নেতা ওসমানগনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কমিটিতে প্রকৃত আন্দোলনকারীরা স্থান পায়নি। এটি ঢঙয়ের কমিটি দিসে কেন্দ্র। ইমন গ্রুপের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। এটি কমিটি নয়, নাটক করছে।’

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সুনামগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক ইমন দ্দোজা আহমদের দাবি, ‘পদবঞ্চিতরা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বিধায় কেন্দ্র তাদেরকে কমিটিতে রাখেনি। কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্র, এতে আমাদের দোষ কোথায়? আমাদের ওপর হামলা কেন? তাদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগের কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি তাদেরকে কমিটিতে রাখেনি।’

শাবিপ্রবির সমন্বয়ক আবু সালেহ মো. নাসিম বলেন, ‘সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত লঙ্কাকাণ্ড ঘটে যাওয়ার পরও এখনো শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ধন্যবাদ দেই কমিটিকে। সুনামগঞ্জ কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। নাসিমকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। নাসিম সুনামগঞ্জের বন্যার পানিতে ভেসে আসেনি। আমরা চাইলে, যেকোনও ষড়যন্ত্রকারীকে হটিয়ে প্রোগ্রাম করতে পারবো। আমরা ১৭ দিনে চলে আসিনি। ১৭ বছরের রেজিমকে বুড়িগঙ্গা দিয়ে ভাসিয়ে ভারতের দিল্লিতে পাঠিয়ে তারপর বাংলায় বসেছি। তারা কারও ভয়ে এখান থেকে চলে যাবে না। আমরা দিল্লির প্রোডাকশন নই। আমরা ঢাকার সন্তান। তাকাব্বরি আমাদের সঙ্গে করবেন না। আপনারা কী মনে করেন নিজেকে? আমি হুমকি দিচ্ছি না। নাসিমকে আটকানো সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব বাস্তবায়িত হয়েছে হাজার হাজার ভাইয়ের জীবনের নজরানা দিয়ে। দেশে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। সুবিধাবাদীরা ষড়যন্ত্রকারীরা ক্ষমতার মসনদে বসতে চায়। বিপ্লবকে ব্যর্থ ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় তারা। ৫ আগস্ট আমরা সশস্ত্র বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আজ যদি কেউ ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, প্রয়োজনে সশস্ত্র বিপ্লব আবারও ফিরে আসবে।’

সুনামগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর রেজা ই রাব্বি বলেন, ‘ছাত্ররা এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিচ্ছেন। এক গ্রুপ বলতেছে, এরা অস্ত্র নিয়ে এসেছে, অন্য গ্রুপ বলে ওরা অস্ত্র নিয়ে এসেছে। এটা অন গ্রাউন্ড সমাধানের কোনও বিষয় নয়। তদন্ত না করে বের করা যাবে না- কারা অস্ত্র নিয়ে এসেছে। কমিটির সদস্য নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এক গ্রুপের দাবি, তাদেরকে কমিটি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অন্যগ্রুপ বলছে, কেন্দ্র কমিটি দিয়েছে। সেখানে বঞ্চিতরা আমন্ত্রিত ছিল না, সেটা হচ্ছে পদ পাওয়া গ্রুপের অভিযোগ। এটা রাজনৈতিক ইস্যু। দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করে দিতে কেন্দ্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা ও উপজেলা প্রশাসন তাদেরকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু হয়নি। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’