সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সিলেট শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
একইসঙ্গে ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে রবিবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি। ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও মহাসচিব কায়সার কামালের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত কমিটিকে সরেজমিন অনুসন্ধান ও ফোরামের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘কমিটি বাতিল করা হয়েছে। তবে কী কারণে বাতিল করা হয়েছে, তা আমি জানি না।’
তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে সিলেটের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনা অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান সদস্য নুরুল হককে ভেতরে-ভেতরে সমর্থন দেয়। তবে একই পদে এখানে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এ টি এম ফয়েজ উদ্দিনও প্রার্থী হন। তাকে নির্বাচন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এ অবস্থায় কিছুদিন প্রচারণা চালালেও শেষ পর্যন্ত নুরুল হক প্রার্থী হননি। মূলত এরপর থেকেই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ে।
গত ১৬ জানুয়ারি সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হয়। এতে ২৬টি পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১২টিতে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা জয় পান। এ ছাড়া বিএনপিপন্থি ছয় জন ও জামায়াতপন্থি পাঁচ জন জয়ী হন। বাকিদের মধ্যে একজন জাসদপন্থি এবং দুজনের দলীয় পরিচয় জানা যায়নি।
আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে প্রায় প্রতিটি পদেই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা অংশ নেন। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন না। এতে বিএনপি ঘরানার প্রার্থীদের দলটির সমর্থক অনেক ভোটার ভোট দেননি। এ অবস্থায় বিএনপিপন্থি বেশিরভাগ আইনজীবী নির্বাচনে পরাজিত হন।
এদিকে, সোমবার বিকাল ৩টার দিকে সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি সরওয়ার আহমদ চৌধুরী (আবদাল) ও সাধারণ সম্পাদক মো. জোবায়ের বখতসহ কমিটির সবাই শপথ নিয়েছেন। এর আগে বেলা দেড়টার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ তারেক গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সমিতির দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী গঠনতন্ত্রের আলোকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ ও গণনাকার্য সম্পন্ন হয়। সব জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। নির্বাচন চলাকালীন কিংবা ভোট গণনাকালীন নির্বাচন নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। সিলেট জেলা বারের নির্বাচন কোনও সময়ই দলীয়ভিত্তিক কিংবা দলীয় প্যানেলভিত্তিক হয়নি। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অনলাইন, প্রিন্ট এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া একে পরিকল্পিতভাবে ভ্রান্তিমূলক তথ্যের ভিত্তিতে দলীয় নির্বাচন হিসেবে প্রচার করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ সংবাদের কোনও প্রতিবাদ তাৎক্ষণিক না করায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়। তাই নির্বাচন কমিশন এ প্রচার-প্রোপাগান্ডার জোর এবং তীব্র প্রতিবাদ করছে। এ প্রচার-প্রোপাগান্ডা থেকে বিরত থাকার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করা হলো।