কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামি সিসিক মেয়র আরিফুল জামিনে মুক্ত

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জামিনে কারামুক্তি পেয়েছেন। সোমবার সকাল ৯টায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার আলম মুকুল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কিবরিয়া হত্যা মামলা

সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে কারারুদ্ধ ছিলেন। হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা দুটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে এই মেয়র যথাক্রমে চলতি বছরের ২২ ও ২৭ মার্চ জামিন লাভ করেন। জামিন আদেশ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর সোমবার কারাকর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেয়।

আরিফুল হকের নিজের এবং মায়ের অসুস্থতা বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ আদালত আরিফুল হকের ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতেও বলা হয়।

কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার আলম মুকুল জানান, কারাবন্দি আরিফুল হক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অসুস্থ থাকায় ঢামেক থেকেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

আরিফুল হকের ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানান, মুক্তিলাভের পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন মেয়র আরিফ। মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য শিগগিরই তাকে সিলেটে নিয়ে আসা হবে।

জানা যায়, ২২ মার্চ কিবরিয়া হত্যা মামলায় আরিফুল হকের হকের ১৫ দিনের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মোহম্মদ ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ। ২৭ মার্চ বিস্ফোরক মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে তাকে অনুরূপ জামিন দেয়া হয়।

গ্রেফতারের পর সিসিকের বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুররী২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। হামলায় আরও নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী।
এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। ২০১৫ সালের  ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ আসামির বিরুদ্ধে কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়।
একই বছর ১১ জুন হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহ আলোচিত এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এটিকে পাঠানোর আদেশ দেন।
বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং বিস্ফোরক মামলাটি হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

/এইচকে/