বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আল্লাহর রহমতে দুর্নীতিকে নির্মূল করে ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে বিএনপি রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। জনগণের ভোটাধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অতীতে যারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনও ভুলতে পারে না। দেশে এখনও নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে, গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার শিফা, হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী এস এম ফয়ছল।
তারেক রহমান বলেন, ‘চা বাগানের নারী শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রম করেও পরিবার চালাতে হিমশিম খান। তাদের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সব মা ও গৃহিণীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশগামীদের ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে দক্ষ প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রবাসে পাঠানো হবে, যাতে সেখানে গিয়ে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে ভালো চাকরি করতে পারেন।’
কৃষিখাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সহজে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি কৃষি ঋণ ও বীমা সুবিধাও নিশ্চিত করা হবে। মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ব্যবস্থা চালু করা হবে।’
গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। একটি দল পোস্টাল ব্যালট দখল ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অপচেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি নম্বর ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগেই যারা অসৎ পথে টাকা বিলায়, তারা ক্ষমতায় গেলে সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সৎ লোকের শাসনের কথা যারা বলেন তারা বিগত দিনে কী করেছেন, এদেশের মানুষ ভোলেনি। একাত্তরে লাখো শহীদের রক্ত ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। তখন তারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। তাদের অবস্থান ছিল দেশের বিরুদ্ধে। শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া দেখিয়ে গেছেন কীভাবে সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করতে হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে প্রমাণ হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে দুর্নীতি কমতে শুরু করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে কেউ কেউ সংকটের সময় দেশ ছেড়ে পাশের দেশে পালিয়েছে—কেউ দিল্লি, কেউ পিন্ডিতে। কিন্তু বিএনপি দেশের মানুষের পাশেই ছিল। বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেশ ও জনগণকে ছেড়ে যাননি। বিএনপির শাসনামলে এই দেশে কলকারখানা, সড়ক, স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একমাত্র বিএনপিই জনগণের পক্ষে রাজনীতি করেছে।’
বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়। আল্লাহর রহমতে সৎ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’