তেলবাহী ট্রেনের ওয়াগন ১২ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেল স্টেশনের কাছে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনের লাইনচ্যুত ছয়টি বগি উদ্ধারকাজ চলছে। বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলে এসে রাত ১টা থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। তবে দুর্ঘটনার পর ১২ ঘণ্টা পার হলেও এখনও উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এদিকে লাইন বন্ধ থাকায় কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি ডিজেলবাহী একটি ট্রেন মোট ১৬টি বগি নিয়ে সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। পথে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা নামক স্থানে তেলবাহী ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে পাঁচটি তেলের ওয়াগন রেল লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এ সময় একটি ওয়েল ট্যাংকার রেল সেতু থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়। এতে প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইনও দুমড়েমুচড়ে যায়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর পর তেলবাহী ট্যাংকারগুলো থেকে ডিজেল বের হতে থাকে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তেল সংগ্রহ করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ, বিজিবি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্যরাও ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

train2

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্ডেনের পরিচালক শফিকুল ইসলাম ডালিম জানান, রাতে বিকট শব্দে ট্রেনের পাঁচটি তেলবাহীসহ ছয়টি বগি লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সাইফুল নামে স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী হাড়ি, বালতি যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে তেল সংগ্রহ করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে রেলওয়ে ম্যানেজার এ বি এম কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ট্রেনের গতি, রেলওয়ে ত্রুটি সহ একাধিক বিষয়কে মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পরই বিস্তারিত জানা যাবে। পাঁচ ওয়াগনে প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেল রয়েছে। এর মধ্যে ২০ থেকে ৩০ ভাগ জ্বালানি তেল  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, রেললাইন স্বাভাবিক হতে দুপুর গড়িয়ে যেতে পারে।

দুর্ঘটনার কারণে সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস, সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।