সিলেটে যে কারণে এত বড় দুর্ঘটনা, যা বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে আট জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের বাসের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের আট যাত্রী নিহত হন।

এছাড়া দুটি বাসের অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।

যেভাবে ঘটলো এই দুর্ঘটনা

প্রত্যক্ষদর্শী দুজন জানিয়েছেন, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন এবং ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের (স্লিপার কোচ) দুটি বাস মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় একে অপরকে ওভারটেক করার চেষ্টা করার সময় চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারান। নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরপরই দুই বাসের মধ্যে অত্যন্ত তীব্র গতিতে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে রাস্তার পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। তীব্র গতিতে এসে ওভারটেকিং করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটটেছে।

 

ঘটনাস্থলেই মৃত্যু

বাসের ভেতরের অংশ দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের আট জন যাত্রী প্রাণ হারান।

বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পর পরই শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিংয়ের কারণেই সড়কে প্রাণ ঝরলো আট জনের। আহত হয়েছেন ২৫ জন।

হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিওনের এসপি হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন– দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলের জাহাঙ্গীর হোসেনের তিন বছর বয়সী কন্যা ফাইজা ও কিশোরগঞ্জের ঢুলিয়ারপারের লক্ষীপুর গ্রামের হাজী শফিক উদ্দিনের ছেলে হাজী মঈনুল ইসলাম (৫৫)। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি, পুলিশ তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।