পুলিশের পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই: পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য ভাইরাল

‘আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইবো নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’—হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তে গিয়ে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে ইলিয়াস হোসেন এ বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে। কথা বুঝছো না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইবো নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে সেখানে গিয়েছিলেন এএসআই ইলিয়াস হোসাইন। ওই সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তদন্তে ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। ঘুষ ছাড়া মামলার তদন্তে আগ্রহ দেখান না তিনি।

এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের টেকারঘাট গ্রামে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্তের সময়ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, তিনি মামলার বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বাদীকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন এবং ভয়ভীতি দেখান।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম তার এলাকার ‘বড় ভাই’—এমন পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানায় ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। 

ভিডিওর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ এরপর তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন, তার (এএসআই ইলিয়াস হোসাইন) সঙ্গে বসে বিষয়টি জানার চেষ্টা করবো।’