যার যা আছে তাই নিয়ে মাঠে উপস্থিত থাকার ঘোষণা, এরপর ৪ গ্রামের সংঘর্ষ

গ্রামের মসজিদের মাইকে রাতে ঘোষণা দেওয়া হয় সকালে যার যা আছে তা নিয়ে মাঠে উপস্থিত থাকার জন্য। ঘোষণার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। রাতেই সেখানে অবস্থান নেয় পুলিশ। দুইপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা চলে। কিন্তু কাজ হয়নি। 

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশের উপস্থিতিতেই শুরু হয় দুইপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মধ্য তাহিরপুর এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। দুপুর ২টার দিকে সংঘর্ষ থামলেও এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আছে। পুলিশ মোতায়েন আছে ঘটনাস্থলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে মধ্য তাহিরপুর এলাকার মাঠে ক্রিকেট খেলছিল একদল কিশোর। তখন পাশের সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক দিয়ে একটি ইজিবাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন এক চালক। একপর্যায়ে মাঠ থেকে বল গিয়ে পড়ে ইজিবাইকের সামনের কাচে। এ নিয়ে মধ্য তাহিরপুর (ময়মনসিংহ হাটি) গ্রামের ইজিবাইকচালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় বীরনগর গ্রামের এক কিশোরের। একপর্যায়ে দুই জনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরদিন বীরনগর গ্রামের এক যুবককে তাহিরপুর বাজারে মারধর করেন মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দুই ব্যক্তি। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে মধ্য তাহিরপুর এবং বরীনগর, ধুতমা, জয়নগর ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে আবার দুই গ্রামের দুই যুবকের মধ্যে তাহিরপুর বাজারে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর রাত ১২টার দিকে বীরনগর গ্রামের মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় সকালে যার যা আছে, তা নিয়ে মাঠে থাকার জন্য। মাইকের এই ঘোষণার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ রাতেই সেখানে অবস্থান নেয়। আজ সকালে লোকজনও সেখানে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু উভয়পক্ষের লোকজন বেশি হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিন জনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন জানান, তুচ্ছ একটা বিষয় নিয়ে এত বড় ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা মীমাংসা করতে পারতেন। সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়ায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমদ বলেন, তারা খবর পেয়ে গতকাল রাতেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং দুইপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। আজ সকালে দুইপক্ষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এর এক পর্যায়ে দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে ৩০-৪০ জন আহত হয়েছেন। এখনও সেখানে পুলিশ মোতায়েন আছে। পরিস্থিতি থমথমে।