আটকের পর অসুস্থ হয়ে পড়লেন ছাত্রলীগ নেতা, ওসিকে হুমকি

‎সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে থানায় নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ফেসবুক লাইভে এসে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখকে হুমকি ও গালিগালাজ করেছেন ফাহিম রাজা নামে এক যুবক। তবে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও গুজব বলে দাবি করেছেন ওসি।

দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে আছেন।
‎
‎বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে শহরের নতুনপাড়া এলাকা থেকে প্রিন্সকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে অসুস্থ অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
‎
‎পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলার ভিত্তিতে প্রিন্সকে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। থানা হাজতে রাখার পরে প্রিন্স গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শারীরিক দুর্বলতার কারণে পড়ে যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর প্রিন্সকে থানায় নেওয়ার পর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয় এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করে তার পরিবার। এর কিছুক্ষণ পরেই ফাহিম রাজা নামে এক যুবক ফেসবুক লাইভে এসে ওসি রতন শেখকে হুমকি ও গালিগালাজ করেন।
‎
‎নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সের বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী জানান, তার ছেলের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী তিনটি মামলা থাকলেও সে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিল। এসআই জাকারিয়া তাকে জানিয়েছিলেন, ওসি কিছু কথা বলার জন্য ছেলেকে থানায় নিতে বলেছেন এবং পরে বাসায় পৌঁছে দেবেন। পুলিশের আশ্বাসে ছেলেকে তাদের হাতে তুলে দেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
‎
‎এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেন, পুলিশ হেফাজতে তাকে মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি। সে খিচুনিজনিত রোগে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণে অসুস্থ হয়ে যায়। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন জন চিকিৎসকসহ মোট চার জন চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করেছেন। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তার শরীরে কোনও আঘাত বা নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন এবং কথা বলছেন। থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় পড়ে যাওয়ার পুরো ঘটনা ধারণ করা আছে এবং ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।
‎
‎ফেসবুক লাইভে তাকে হুমকি দেওয়া প্রসঙ্গে ওসি বলেন, আমার দায়িত্বকালে পুলিশ হেফাজতে কারও ওপর নির্যাতন বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং পুলিশ সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।