মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরীক্ষা সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। এখানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর আধঘণ্টা আগেই পরীক্ষার্থীদের কক্ষে প্রবেশ করতে হবে। অন্যথায় তাদের ঢুকতে দেওয়া হবে না।’
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আধ ঘণ্টা আগে অবশ্যই ঢুকতে হবে, না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে পরে বোঝা যাবে। আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা হবে। এর ছয় বা তিন মাস আগে থেকে আমরা মনে করিয়ে দেবো আধঘণ্টা আগেই পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট চালু থাকবে। পরীক্ষায় কোনও অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া চালু থাকবে পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি কন্ট্রোল রুম। তিনি
পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সবার ক্ষেত্রে সব ধরনের মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। শুধু পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব যোগাযোগের জন্য একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মোখলেছুর রহমানের অভিযোগ, সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হলে এর এক ঘণ্টা আগে প্রশ্ন বাইরে চলে আসে। তাই পরীক্ষার্থীদের আগেই পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকিয়ে তারপর প্রশ্নের প্যাকেট খোলার পরামর্শ দেন তিনি। তার কথায়, ‘পরীক্ষার দিন সকালে কেন্দ্র সচিব ছাড়া কারও কাছেই মোবাইল থাকবে না, এটা নিশ্চিত করতে পারলেই প্রশ্নফাঁস হবে না। কারণ ফোনে ছবি তুলে তারা বাইরে প্রশ্ন পাঠিয়ে দেন।’
কেন্দ্র সচিবরা ক্যামেরাবিহীন মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টি যথাযথভাবে মানছেন না বলে বৈঠকে অভিযোগ করেন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম। তার ভাষ, ‘সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার কড়াকড়িভাবে মানা হয় কিনা তা দেখতে হবে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গত এক বছরে ৯টি মামলায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশ্নফাঁস চক্রের ৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে এইচএসসিতে ১৮ জন, এসএসসিতে ৩৫ জন এবং অন্যরা মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার সময় গ্রেফতার হয়। এসব মামলার অভিযোগপত্র শিগগিরই দেওয়া হবে।’
পরীক্ষার আগে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেন র্যা ব কর্মকর্তা মেজর রাহাত। তিনি বলেন, ‘ওরাই প্রশ্নফাঁসের ওয়ান অব দ্য মিডিয়া। এ কারণেই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে হাতে হাতে প্রশ্ন দেখা যায়।’ এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে যে আইন হচ্ছে, তাতে কোচিং সেন্টারই থাকবে না।’
এদিকে এমসিকিউ পদ্ধতি সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেন সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। পরীক্ষা কেন্দ্র বা উপজেলা পর্যায়ে প্রশ্ন ছাপিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। শতভাগ নিরাপদ হলেই এটা বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় আরও ছিলেন কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান, বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পুলিশ, র্যাব, সিআইডি ও এনএসআই প্রতিনিধি এবং জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা।