ট্রেড লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও ফার্মগেটে অবস্থিত ইউসিসি কোচিং সেন্টার খোলা রেখেছে কর্তৃপক্ষ। যদিও তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন গোপনে। তবে ইউসিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, পুনরায় লাইসেন্স নেওয়া হচ্ছে। দু’একদিনের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
দোতলায় যেতেই দেখা যায় কোচিং সেন্টারটি রীতিমত অন্যসব দিনের মতই খোলা। সেন্টারের করিডোরগুলোতে কোনও আলো না থাকলেও কোচিং সেন্টারটির সিসি ক্যামেরাও সচল থাকতে দেখা গেছে। কোচিং সেন্টারে ঢুকতেই জনসংযোগ রুমে দু’জনের দেখা মেলে। অফিস রুমে কাজে মগ্ন তিনজন। তাদের সামনে বসে আছেন তিনজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী যাদের ভর্তির জন্য প্রলোভন দিয়ে বলা হচ্ছে, ‘আগামী ১০ তারিখের মধ্যে যেকোনও বিভাগে ভর্তি হলে ২ হাজার টাকা ছাড়।’
সেখানে উপস্থিত হয়ে ‘ছাত্র ভর্তি করাতে চাই’ জানালে এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান ‘কোন বিভাগে ভর্তি করাবেন?’ এরপর কিছু লিফলেট ও ব্রোশিয়ার মেলে ধরেন প্রতিবেদকে সামনে। তখন ওই দু’জনের কাছে এ প্রতিবেদক জানতে চান, ‘নিচ থেকে বললো, কোচিং সেন্টার নাকি বন্ধ? ঘটনা কি?’
এসময় একজন বলেন, ‘আমাদের এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কোনও সুযোগ আছে বলেন? আপনি কি আমাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানেন না?’ একথা বলতে বলতে তিনি আরও কয়েকটি কাগজ বের করে দেখান।
তিনি আরও বলেন, ‘এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত গেছি। আমার এক মামা আছে, গোপালগঞ্জের মেয়র। তার কাছে এই কাগজগুলো পাঠাবো। দু’একদিনের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তিনিই সব ব্যবস্থা করবেন। আজ যা করে দিছি, তারা (ডিএনসিসি) শুধু এখন একটা চিঠি পাঠাবে, দেখবেন সব ওকে।’
তিনি বলেন, ‘কোচিং সেন্টার বাতিল করার কিছু নেই। আজ হাইকোর্টের রিট করি দেখবেন, বছরের পর বছর স্থগিত থাকবে।’
ইউসিসি কোচিং সেন্টারের মালিক আব্দুল হালিম পাটোয়ারীর পরিচয় তুলে ধরে শরিফ বলেন, ‘আসলে লোক তো সবারই থাকে। এত বড় এত কিছু চালায়। আজ ইউসিসির মালিক আব্দুল হালিম পাটোয়ারী’র হয়তো একটা সমস্যা ছিল, তিনি একসময় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, ছাত্রদল করতেন। মনে করেন, ২০০৬ সালের পরে যদি নমিনেশন দিতো এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসতো তাহলে এই আব্দুল হালিম পাটোয়ারী শিক্ষামন্ত্রী থাকতো। শুধু তাই নয় তিনি কিন্তু এখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট মেম্বার।’
তার নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে (ইউসিসি) ইংরেজি ডিপার্টমেন্টের হেড এবং ইউজিসি কোচিং সেন্টারের চিফ অ্যাডভাইজার। আমরা নাম শরিফ স্যার। শরিফ স্যারকে অন্তত দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের এইট্টি পারসেন্ট স্টুডেন্টরা চিনবে। ফুল নাম কওয়া (বলা) লাগে না। আমাকে একনামেই সবাই চেনে, এমডি শরিফুল ইসলাম খান। এসময় ওইখানেই উপস্থিত ছিলেন কোচিং সেন্টারটির এক্সিকিউটিভ মোস্তফা কামাল।’
পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শরিফ স্যারকে ফোন করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভাইয়া, আমরা তো কোচিং সেন্টার খুলে রাখিনি। আমরা গিয়েছিলাম শুধু একটু দেখতে। কোচিং সেন্টার তো বন্ধই। বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি তার যে নামটি বলেছিলেন সেই নাম অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ভাই আমার নাম শরিফ না শফিক।’ এরও দু’মিনিট পরে তাকে আবার ফোন করে তার নাম জানতে চাইলে তিনি একটু ভেবে বলেন, ‘আমার নাম সোহানুর রহমান।’
এদিকে কোচিং সেন্টারটির এক্সিকিউটিভ মোস্তফা কামালের কাছে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘কোচিং সেন্টার তো খোলা রাখিনি। আমরা এমনিতেই ঘুরতে গিয়েছিলাম।’
এ বিষয়ে কথা বলতে আব্দল হালিম পাটোয়ারীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্র বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেসব কোচিং সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে সেগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যারা এখনও কার্যক্রম বন্ধ করেনি আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এজন্য একটা অফিসিয়াল অনুমোদন লাগে। আনুমোদনের কাজ চলছে। ফাইল অনুমোদন হয়ে গেলেই ব্যবস্থা।’
উল্লেখ্য, অবৈধভাবে পোস্টার লাগানোর দায়ে গত মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ফার্মগেট এলাকায় অবস্থিত ইউসিসি কোচিং সেন্টার, ইউনিএইড কোচিং সেন্টার, আইকন কোচিং সেন্টার, আইকন প্লাস কোচিং সেন্টার, ওমেকা কোচিং সেন্টার এবং প্যারাগন কোচিং সেন্টারে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে।
লাইসেন্স বাতিল হলেও খোলা ইউসিসি কোচিং সেন্টার: