ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা বিচার চাইতে এসে ফের নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬ জন শিক্ষক। শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘নিরপেক্ষ আচরণ করছে না’।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘এই অবস্থায় প্রশাসন আইনিপন্থা ব্যবহার না করে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করায় অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে। এর ধারবাহিকতায় শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রশাসন যে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না সংবাদমাধ্যমে পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিই তার প্রমাণ। নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল না হয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠা এবং আন্দোলন দমাতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনকে ব্যবহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ও ভাবমূর্তিকে ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে,’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন শিক্ষকরা।
এসময় অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন ও হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান শিক্ষকরা। এছাড়া ডাকসুসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নিতেও তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিদাতা শিক্ষকরা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেহাল করিম, এম এম আকাশ, গীতি আরা নাসরীন, কাবেরী গায়েন, ফাহমিদুল হক, তানজীম উদ্দিন খান, সামিনা লুৎফা, মোহাম্মদ আজম, মোশাহিদা সুলতানা, দেবাশীষ কুণ্ডু, সাজ্জাদ এইচ সিদ্দিকী, মুনাসির কামাল, অতনু রব্বানী, দীপ্তি দত্ত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আনু মুহাম্মদ, নাসিম আখতার হোসাইন, সৈয়দ নিজার আলম, মির্জা তাসলিমা সুলতানা, আইনুন নাহার, রায়হান রাইন, মানস চৌধুরী, পারভীন জলি, হিমেল বরকত, খন্দকার হালিমা আখতার রিবন, রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা, মোশরেফা অদিতি হক, মাহমুদুল হাসান সুমন, স্বাধীন সেন, সাঈদ ফেরদৌস, শরমিন্দ নিলোর্মি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভী চৌধুরী, তানভীর আহসান, ফারহানা সুস্মিতা, সৌম্য সরকার, কাজী অর্ক রহমান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আর রাজী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌতম দত্ত। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিনু কিবরিয়া ইসলাম। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারহা তানজীম তিতিল, বশেমুরবিপ্রবির সুকান্ত বিশ্বাস, কাজী মশিউর রহমান, হাবিবুর রহমান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহবুবুল হক ভুঁইয়া, মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. আবুল কাশেম। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজী এম এ জলিল।