সব পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ৯ দফা সুপারিশ নিয়ে মানববন্ধন করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রবিবার (১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে শান্তির পায়রা চত্বরে সমবেত হয় এই সংস্থা।
মানববন্ধনে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে কিছু দাবি লিখে আনেন অংশগ্রহণকারীরা। এগুলোতে লেখা ছিল ‘প্রশ্নফাঁস মুক্ত পরীক্ষার নিশ্চয়তা চাই’, ‘শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য সম্পৃক্ততা বন্ধ করতে হবে’, ‘সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার নিশ্চয়তা চাই’, ‘পরীক্ষা পদ্ধতির সব পরিবর্তনে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করতে হবে’, ‘পরীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে’ ইত্যাদি। টিআইবি’র সদস্য, টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপের সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, টিআইবি কর্মী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধনে আরও ছিলেন টিআইবি’র সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ফারহানা ফেরদৌস এবং অর্থ ও প্রশাসন বিভাগের পরিচালক আব্দুল আহাদ।
টিআইবি গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম মনে করেন, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টিকে যতটা গুরুত্বপূর্ণ দেওয়ার দরকার ছিল, ততটা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। এই পরিস্থিতি কোনও অবস্থায় মেনে নেওয়া যায় না। এটা কোনও অবস্থাতেই চলতে দেওয়া যাবে না। টিআইবি’র পক্ষ থেকে আমরা সবসময় এ বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি ও ব্যাপক গবেষণা করেছি। কীভাবে প্রশ্নফাঁস হয়, সেই আলোকে একটি পদ্ধতি তৈরি করেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের পদ্ধতি অনুসরণ করলে এমন পরিস্থিতি হয়তো সৃষ্টি হতো না।’
মানববন্ধনে টিআইবির উত্থাপন করা ৯ দফা সুপারিশ হলো:
১. ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’-এর অস্পষ্টতা দূর করা।
২. কোচিং বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা।
৩. প্রশ্নফাঁস রোধ ও সৃজনশীল পদ্ধতির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গাইড বইয়ের আদলে প্রকাশিত সহায়ক গ্রন্থাবলী বন্ধে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
৪. তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে তদারকি বাড়ানো ও প্রচলিত আইনের অধীনে শাস্তি নিশ্চিত করা।
৫. ধাপ কমিয়ে প্রশ্ন প্রণয়ন, ছাপানো ও বিতরণের কাজটি পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা ও পরবর্তীতে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
৬. প্রশ্নফাঁস নিয়ে গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ ও সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
৭. শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি এবং ব্যবস্থাপনাগত যেকোনও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া ও যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া।
৮. প্রশ্নফাঁস রোধে বহুনির্বচনি প্রশ্নব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে তুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও তা বাস্তবায়ন করা।
৯. পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্নপত্রের একাধিক সেট রাখা।
এদিকে টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ঢাকার বাইরে আরও ৪৫টি অঞ্চলে একযোগে এই মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।