ভিপি নুরুল হক নুরের দাবি, ১৯৯০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সভায় ক্যাম্পাসে জাতীয় পার্টির ছাত্র সমাজ এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু এর কোনও লিগ্যাল ফরম্যাট ছিল না। তাই ডাকসুতে উগ্র, সাম্প্রদায়িক ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি এবং জাতীয় ছাত্র সমাজের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাবের সঙ্গে সবাই একমত হয়েছে।
ভিপি নুরু জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের গৃহপালিত বিরোধী দল আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে গৃহপালিত বিরোধী দল (জাতীয় পার্টি) নিয়ে ক্ষমতায় আছেন। আর সাদ্দাম হোসেন যেহেতু ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন এবং তার একটি মাদার অর্গানাইজেশন আওয়ামী লীগ এই গৃহপালিত দলের কারণে ক্ষমতায় থাকাটাকে জায়েজ করে নিয়েছেন। তাই এখন রাজনৈতিক কারণে হয়তো এই কথাটা উল্টিয়ে বলছেন যে “তারা ছাত্র সমাজ নিয়ে কথা বলেননি”।’
ভিপি নুর আরও বলেন, ‘১৯৯০ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, এর কোনও লিগ্যাল বডি ছিল না। তাই আমরা সবাই ওই সিদ্ধান্ত ডাকসুর গঠনতন্ত্রে সংযোজনের প্রস্তাব করেছি। এখানে ছাত্র সমাজের বিষয়ে ছাত্রলীগের মনোনীত প্যানেলের সবাই একমত হয়েছে। এখন তারা বার বার বলছে যে, ধর্মভিত্তিক সব ছাত্র সংগঠনের নিষিদ্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, ছাত্র সমাজকে নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। কিন্তু ডাকসুতে প্রস্তাবনা ছিল, ধর্মভিত্তিক উগ্র, মৌলবাদী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা। কারণ এখানে অনেকগুলো ইসলামী নিবন্ধিত দল রয়েছে, তাদের যদি আমরা নিষিদ্ধ করি তাহলে আদালতের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। তাই উপাচার্য স্যারও (আখতারুজ্জামান) বলেছিলেন, শুধু ধর্মভিত্তিক দল নয়, এদের মধ্যে যারা উগ্র তাদেরকেও নিষিদ্ধ করতে ‘
এ বিষয়ে ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘জাতীয় ছাত্র সমাজের বিষয়টি গতকালের এজেন্ডাভুক্ত ছিল না। এটি পরিবেশ পরিষদ আগেই নিষিদ্ধ করেছে। তবে, ভিপি এ বিষয়ে একবার আলোচনা করছিল। তার আলোচনায় ছিলো যে এরশাদের মৃত্যুতে অনেক ছাত্র সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। ওই সময় ভিপিও ফেসবুকে এরশাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন, এরপর তাকে উপস্থিত সদস্যরা প্রমাণ দেখালে তিনি বসে যান।’
সাদ্দাম হোসেন আরও বলেন, ‘জাতীয় ছাত্র সমাজ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে আমাদের প্রতিহত করার আইনগত অধিকার রয়েছে। আর জাতীয় ছাত্র সমাজের বিষয়ে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে। আর যেটা হয়েছে, তা হলো প্রগতিশীলতার আরেকটি ধাপে উন্নীত হওয়া। ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। একটি সভাতে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়। বৃহস্পতিবারের এজেন্ডায় যা ছিল, তাই নিয়েই আলোচনা হয়েছে। যারা এর বিতর্ক করতে চাচ্ছে তারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে।’
ভিপি নুরকে উদ্দেশ করে এজিএস সাদ্দাম আরও বলেন, ‘এরশাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে হঠাৎ করে ছাত্র সমাজকে নিয়ে কথা তুললে তখন সভাতে অন্য সদস্যরা এর নিন্দা প্রকাশ করেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সভায় কোনও সংগঠনকে উল্লেখ করে আলোচনা হয়নি।’