জুয়েল রানা বলেন, ‘ছাত্রলীগের প্রতি জাবির ভিসি যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে জানিয়েছেন। তবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ খারাপ কিছু নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন তিন মাস ধরে চলছে। ভিসিকে উদ্ধার বা আন্দোলন প্রতিহত করতে গেলে আগেই যেতাম। আমরা অনুমানের ভিত্তিতে কিছু বলছি না।’
এই ছাত্রলীগ নেতা আরও বলেন, ‘আন্দোলন করার অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার আছে, ভিসিকে রক্ষা করার দায়িত্বও আমার নয়।’
শিবির আন্দোলনে ঢুকে গেছে, তার কী প্রমাণ আছে— জানতে চাইলে ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘ছাত্রলীগের বক্তব্য হচ্ছে, শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। আমাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ আছে, অডিও আছে। কে অর্থ দেয়, কে টাকা নেয়, সব প্রমাণ আছে। তবে, সবাই যে শিবির তা নয়, অনেক শিক্ষক আছেন, যাদের ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তারাও জানেন না যে তাদের পাশে শিবির আছে।’
জুয়েল রানা বলেন, ‘আমাদের যুদ্ধ ঘোষণা শিবিরের বিরুদ্ধে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নয়। তারা শিবিরকে বাইরে রেখে আজ আন্দোলন করছেন। আমাদের কোনও আপত্তি নেই। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, তারা কিন্তু আজ ক্যাম্পাসে নেই। এতেই প্রমাণিত হয় তারা শিবিরকর্মী ছিলেন।’
কোন বিষয়ে তদন্তের দাবি নিয়ে ভিসির বাসভবনে গিয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জুয়েল রানা বলেন, ‘দশ-পনেরো দিন আগে মশাল মিছিল থেকে একজনকে আটক করা হয়। সেদিনই আমরা বিক্ষোভ করে চার দফা দাবি জানিয়েছিলাম। তার মধ্যে একটি দাবি ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা। সেই বিষয়টি নিয়ে ভিসির কাছে গিয়েছিলাম তদন্ত কমিটি কেন করছেন না, তা জানতে। আমরা যখন ওখানে গিয়েছি, আন্দোলনকারীরা ওখানে ছিলেন, আমাদের কর্মীরাও ছিলেন।’
এই প্রশ্নের জবাবে জুয়েল রানা বলেন, ‘ভিসির বিপক্ষে বা আন্দোলনকারীদের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান আমাদের নেই। আমরা কেবল শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস চাই।’ তারা শিবিরের চিহ্নিত নেতাকর্মীদের আন্দোলনের বাইরে রাখতে চান বলেও জানান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হটিয়ে দেওয়ার পর উপাচার্য সংবাদ সম্মেলন করে তাকে ‘মুক্ত’ করাকে ‘গণঅভ্যুত্থান’ বলে আখ্যায়িত করেন। এজন্য তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জাবি শাখা ছাত্রলীগের প্রতিও বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।