বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
দীপু মনি বলেন, ‘একটি দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা যখন নির্ভরশীল জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়, তখন সে দেশে একটি সুযোগের সৃষ্টি হয়। যে সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের উন্নতি সাধন করতে পারে। জনমিতির ভাষায়, এই অবস্থানকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলে। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সাল থেকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের যুগে প্রবেশ করে। ইতোমধ্যে আমরা অনেক সময় অতিবাহিত করেছি। আমাদের হাতে আর সময় আছে মাত্র ১০ থেকে ১১ বছর।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কোনও গিফট নয়। এটি পেতে হলে সঠিক বিনিয়োগ দরকার। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে উল্টো এই সুযোগ বিপর্যয় হিসেবে দেখা দেবে। নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী বেড়ে যাবে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাবে, খরচ বাড়বে, সঞ্চয় কমবে এবং বয়স্ক লোকের সংখ্যা বাড়বে। ফলে কম লোক উপার্জন করবে, আর অধিক লোক তাদের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, একদিকে যেমন দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক তৈরি করতে হবে, অন্যদিকে তাদের মানবিক গুণাবলী ও সৃজনশীলতার বিকাশও ঘটাতে হবে। শিক্ষাঙ্গণ ও শিল্পের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলে আমরা স্নাতক ও চাকরিদাতাদের পারস্পারিক প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে দূরত্ব দূর করতে পারবো।’
শিক্ষাঙ্গণকে সন্ত্রাসমুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘আজ আমাদের কাছে স্পষ্ট যে, শিক্ষাঙ্গণকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ এবং যেকোনও ধরনের নির্যাতন, নিপীড়নমুক্ত রাখার বিকল্প নেই। আর এ জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকার ও অভিভাবকদের সজাগ, সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন হয়ে ওঠে জ্ঞান, বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া চর্চার পীঠস্থান।’
বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ আর পেট্রিক ডি জেফনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কিংস কলেজের প্রেসিডেন্ট ড. এফআর থমাস জে. ও হারা সিএসসি। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকার আর্চ বিশাপ এইচইএম কার্ডিনাল পেট্রিক ডি রোজারিও।