‘টিএসসিতে বাণিজ্যিক ভবন তৈরির পাঁয়তারা চলছে’

ঢাবিতে সংবাদ সম্মেলনবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ভেঙে নতুন ভবন তৈরির পাঁয়তারা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতারা। বৃহস্পতিবার (৩১ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে তারপর পরীক্ষা নেওয়া দাবিতে এবং টিএসসির ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচিও ঘোষণা করেন জোটের নেতারা। আগামী ৫ জানুয়ারি রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংহতি সমাবেশ এবং ৭ জানুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাবি সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘টিএসসি’র যে জনপরিসরে রয়েছে, সেটিকে শিক্ষার্থীরা কী ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারছে? এগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করছে। টিএসসিতে ভবন তৈরির মধ্য দিয়ে এক ধরনের বাণিজ্যিক আদলে টিএসসি-কে গড়ে তোলার চিন্তা চলছে। আমরা মনেকরি, টিএসসির যে দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক-সামাজিক ঐতিহ্য রয়েছে, তা আধুনিকায়নের নামে নষ্ট করার পাঁয়তারা চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম। এতে বলা হয়, অনলাইন ক্লাসে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেনি। ক্লাস শুরুর পূর্বে বলা হয়েছিল, অনালাইন ক্লাসের ভিত্তিতে কোনও পরীক্ষা নেওয়া হবে না। কিন্তু গত ১০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল ডিসেম্বরের ২৬ তারিখ থেকে স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর পর্বের পরীক্ষা সশরীরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুসারে এরই মধ্যে কিছু বিভাগে পরীক্ষার রুটিনও নির্ধারিত হয়েছে।

প্রশাসনের প্রতি জোটের নেতারা তিনটি দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো: স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়া, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে এই বছরের সকল বেতন-ফি মওকুফ করা, টিএসসির বর্তমান অবকাঠামো ভাঙার সিদ্ধান্ত বাতিল করা।