বাঁশিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য হিসেবে যাচাই করতে মন্ত্রণালয়ের চিঠি

বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য বাঁশিকে পাঠ্য বিষয় হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কিনা, তা যাচাই করে দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বাঁশিপ্রেমিক উত্তর কুমার চক্রবর্তীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসির চেয়ারম্যানকে এ চিঠি পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুর-ই-আলমের সই করা গত ১০ ফেব্রুয়ারির ওই চিঠিতে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ললিতকলা অনুষদের সংগীত বিভাগে বাঁশিকে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিবেচনাপূর্বক বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হলো।

জানা গেছে, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বাঁশিকে  বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন উত্তর কুমার চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি। ওই আবেদনের পরিপেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির নির্দেশে বাঁশিকে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কিনা, তা যাচাই করার জন্য ইউজিসিকে এই চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। 

উত্তম কুমার চক্রবর্তী তার আবেদনে উল্লেখ করেন, ‘বাঙালির নিজস্ব ছয়শ’ রকমের বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে বাঁশি অন্যতম। এ উপমহাদেশে যা বাঁশি নামে খ্যাত। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ থেকে বাঁশি শাস্ত্রীয় সংগীতে একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গবিশেষ হিসেবে এখনও প্রচলিত আছে। আমি বাঁশি শিল্পের একজন সেবক হিসেবে উপলব্ধি করলাম, এ শিল্পের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার জন্য কোনও প্রতিষ্ঠানও নেই। তাই প্রাণের সুর বাঁশির প্রতি আগ্রহী মানুষের কথা ভেবেই এর উন্নয়ন রাষ্ট্রীয়ভাবে হওয়া একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করি।’

উত্তম কুমার চক্রবর্তী চিঠিতে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বাঁশির প্রতি দুর্বলতাও রয়েছে। আমরা যদি জনপ্রিয় বাঁশির ঐতিহ্যের বিকাশ ঘটাতে পারি, তবে এ কর্মকাণ্ড জাতির আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত রাখবে এবং জাতির বৈশিষ্ট উদ্দীপ্ত করবে। জাতির অন্তরে ও বাইরে এক প্রবাহ অনুরণন সৃষ্টি করে। নাগরিকরা আত্মমর্যাদা ও মানবিক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হয়ে উঠবে। বাঁশি মানুষকে জাগ্রত করে এবং উপলব্ধি ও জীবনবোধের আনন্দ সঞ্চয় করে।’