অতিরিক্ত ফি আদায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
অপরদিকে, ভর্তিচ্ছুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই সনদপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি বিভাগে ২৫০০ বৃদ্ধি করে ৭ হাজার ৫শ টাকা, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে ১ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার এবং লোক প্রশাসন ও নৃবিজ্ঞান বিভাগে ৫শ টাকা করে বৃদ্ধি করে যথাক্রমে ৬ হাজার ও ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
জীববিজ্ঞান অনুষদের উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ২ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করে যথাক্রমে ৮ হাজার ও ৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
কলা ও মানবিক অনুষদের অধীনে থাকা নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ১ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে ৯ হাজার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ৮৮০ টাকা বৃদ্ধি করে ৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদের রসায়ন বিভাগে ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এ ছাড়া, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ই্ঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বিভাগ উন্নয়ন ফি ছাড়াও ‘কুপন ফি’ নামে ২ হাজার টাকা করে ভর্তিচ্ছুপ্রতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য রশিদ দেওয়া হলেও পরে তা ফেরত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত ৩ বছর ধরে মেডিক্যাল সেন্টার থেকে সরবরাহকৃত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদপত্র বাবদ ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অথচ ভর্তির সময় মেডিক্যাল ফি বাবদ আরও ২শ টাকা আদায় করা হয়।
রবিবার মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন মেডিকেল ভবনের একটি কক্ষে বসে কোনও প্রকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করেই ভর্তিচ্ছুদের একটি করে ফাঁকা সনদপত্র ধরিয়ে দিচ্ছেন দুই কর্মচারী। সেখানে নেই কোনও চিকিৎসক। ভর্তিচ্ছুরা নিজের ইচ্ছেমতো সনদপত্রগুলো পূরণ করে নিচ্ছেন।
বিভিন্ন বিভাগে বিভাগ উন্নয়ন ফি বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও তা বাতিলের দাবি জানিয়ে বিবৃত্তি দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনের সভাপতি তন্ময় ধর ও সাধারণ সম্পাদক দীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বিভাগ উন্নয়নের নামে যে টাকা নেওয়া হয় তা কোথায় খরচ হয় তার কোনও স্বচ্ছ হিসাব নেই। বিভাগের কোনও উন্নয়নও চোখে পড়ে না। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ছাত্রফ্রন্টের সহ-সভাপতি মাসুক হেলাল অনিক বলেন, যেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দায় নেওয়ার কথা সেখানে বিভাগগুলোতে ভর্তি ফি বৃদ্ধি বিশ্ববিদ্যালয়কে বাণিজ্যিকীকরণের পাঁয়তারা মাত্র। অনতিবিলম্বে এই ফি কমানোর দাবি জানাই।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আবুল খায়ের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভাগ উন্নয়ন ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি বিভাগের স্বতন্ত্র বিষয়। তবে বিভাগগুলো আমাদেরকে ব্যয়ের খাত দেখিয়েই প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করে। পরীক্ষা, ল্যাব উন্নয়ন, সেমিনার লাইব্রেরি, স্টাডি ট্যুর ইত্যাদি খাতে এ অর্থ ব্যয় হয়। তবে এটাকে সীমার মধ্যেই রাখা উচিৎ।’
/এফএ/আপ-এনএস/