ইউজিসির ধারণা ভ্রান্ত: শিক্ষা উপমন্ত্রী 

‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ইমেরিটাস নয়’- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এমন কথা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইউজিসি মোটাদাগে বলে দিয়েছে কোনও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর ইমেরিটাস দিতে পারবে না। এটি নীতিগতভাবে ভুল ও ভ্রান্ত ধারণা।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি’ (এপিইউবি) উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এবং ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ বক্তব্য রাখেন। 

মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল বেনজীর আহমেদ।

উপমন্ত্রী বলেন, ‘প্রফেসর ইমেরিটাস দেওয়ার জন্য একটা মানদণ্ড নির্ধারণ করা যায়। কিন্তু মোটাদাগে কোনও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যলয় তা দিতে পারবে না, এমনটা মনে করা নীতিগতভাবে ভুল।’

উপমন্ত্রী আর বক্তব্যে আরও বলেন, “আমরা যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছি, সেটা হয়েছে শুধু এক্সপানশন (বিস্তার)। এমনটা কাঙ্ক্ষিত ছিল না। বঙ্গন্ধুর শিক্ষা দর্শন, যা ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ছিল, তা হয়নি। এটাকেই আমরা এখন বলছি আউটকাম বেইজড এডুকেশন। শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা থাকবে। শুধু জ্ঞান-নির্ভর ও সনদ-নির্ভর শিক্ষায় বঙ্গবন্ধু নিরুৎসাহিত করেছেন।

দুর্ভাগ্যের বিষয়, ’৭৫ পরবর্তী অনেক সরকারের মাথায় শিক্ষার এ প্রায়োগিক বিষয়গুলো ছিল না। থাকার কথাও নয়। কারণ জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা ছিল না।”

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘আগামী ৫০ বছরে কোন ধরনের পেশা তৈরি হবে তা ভেবে আমাদের সন্তানদের এখনই প্রস্তুত করতে হবে। ওটা মাথায় রেখে সার্টিফিকেট কোর্স চালু করতে হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি সেই পদক্ষেপ নেয়, সে ক্ষেত্রে আরও বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে। শুধু লম্বা সার্টিফিকেট কোর্স দিয়ে যে আর চাকরি হবে না, সেটা এখন শিক্ষার্থীরাও বুঝে গেছে।’