উচ্চশিক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও নারীদের ভর্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সভাকক্ষে কলেজ পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন সংক্রান্ত ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং কমিটির তৃতীয় সভায় এই পরামর্শ দেন তারা। ইউজিসি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এই সভার আয়োজন করে।
সভায় শিক্ষাবিদরা সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, ‘কলেজ পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নে মানসম্মত শিক্ষা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষার্থী অনুপাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ, কর্মসংস্থান উপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন, নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তকরণ ও আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোসহ শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির সুপারিশ করেন শিক্ষাবিদরা।
ইউজিসি সদস্য ও ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্লানিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় খসড়া কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর মতামত দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন ও ড. আতিউর রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন এর নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিন আক্তার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য সৈয়দ হুমায়ুন আখতার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সালমা আক্তার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এ মান্নান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, খালেদা আক্তার ও ফৌজিয়া জাফরীন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক এবং জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল করিম।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, কলেজ পর্যায়ে অবশ্যই আউটকাম বেইজড শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষা কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। অন্যথায়, উচ্চশিক্ষা নিয়েও শিক্ষার্থীরা বেকারত্ব ঘুচাতে পারবে না। অন্যদিকে, শিল্প-কারখানাগুলোয় কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চপদ পূরণে চলমান নির্ভরতা অব্যাহত রাখতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। এতে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। তিনি কলেজ পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায় বিজ্ঞান ও আইসিটি সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বসহ পড়ানোর পরামর্শ দেন।
সভায় সূচনা বক্তব্য দেন প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) একেএম মুখলেছুর রহমান। সভায় কলেজ পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কৌশলগত পরিকল্পনার উদ্দেশ্যগুলোর খসড়া উপস্থাপন করেন প্রকল্পের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান স্পেশালিস্ট অধ্যাপক ড. শামছুল আরিফিন। এছাড়া সভায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।