ঢাবির ক্যান্টিনে কোন খাবারের দাম কত বাড়লো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোর ক্যান্টিনে খাবারের দাম বেড়েছে। বাড়তি এই মূল্যকে ‘সাধ্যের বাইরে’ বলে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন হলের ক্যান্টিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেক আইটেম খাবারের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা করে। করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে যেখানে মুরগির মাংস গড়ে ৩০-৩৫ টাকায় পাওয়া যেতো, একই পরিমাণ মাংস এখন ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যে মাছ গড়ে সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ টাকা দাম ধরা হতো, সেগুলোর দাম এখন ৩৫-৪০ টাকা। গরুর মাংস ৪৫-৫০ টাকা থেকে বেড়ে এখন হয়েছে ৫৫-৬০ টাকা, ডিমের কারি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৫ টাকা, পরোটার পিস ৩ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা, কোনও কোনও হলে ভাজি-ভর্তা ৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা। হাঁসের মাংস ৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা, মুরগির গিলা-কলিজা ৩০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৫ টাকা। এরকম হলভেদে প্রায় সব ক্যান্টিনে প্রত্যেকটি খাবারের দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা করে। আবার কোনও কোনও  হলে ভাজি-ভর্তার দাম না বাড়লেও পরিমাণে কমানো হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে কথা হয় সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হলের প্রত্যেকটা খাবারের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু মান আগের চেয়েও খারাপ হচ্ছে। অসহায় হয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে নিচ্ছি আমরা। ক্যান্টিন মালিক ও হল প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই হল ক্যান্টিনগুলোর ওপর প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত, যাতে খাবারের দাম কমানোসহ স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করা হয়, প্রয়োজনে ভর্তুকি দেওয়া হোক।’

বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, ‘ক্যান্টিনে খাবারের দাম আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় আমার মতো নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রদের অনেক অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। আগের এক মাসের খাবার খরচের চেয়ে এখন দেড়-দুইগুণ টাকা বেশি লাগছে।’

করোনা মহামারিতে মানুষের উপার্জন কমে এসেছে। শিক্ষার্থীদের পকেট খরচেও এর প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, করোনার মাঝে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে কাটিয়েছি। করোনার ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি। এখন হলে এসে দেখি— সব খাবারের দাম বেড়ে গেছে। পরিবারের নিজেদের চলতেই যেখানে কষ্ট, সেখানে আমার বাড়তি খরচ, তারা কোত্থেকে দেবে? মনে হচ্ছে মধ্যবিত্ত হওয়াই আমাদের অপরাধ। পরিবারের দিকে তাকালে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। খরচ বাঁচাতে কখনও একবেলা, কখনও দুই বেলা খেয়ে কাটাই।’

দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে সূর্য সেন হল ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক একে সবুজ তাজ বলেন, ‘সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খাবারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। চাল আগে যেখানে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়  কিনতাম, এখন তা ২ হাজার ৫০০ টাকা, প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুরগি কেজিপ্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যে তেল ৮০ টাকায় কিনতাম তা এখন প্রায় ১৫০ টাকা, পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহে দ্বিগুণ হয়েছে। এরফলে আগের দামে খাওয়ানো সম্ভব না। প্রতিকেজি ভাতে ২ থেকে আড়াই টাকা ঘাটতি থাকে।’ ক্যান্টিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনও ভর্তুকি দেওয়া হয় না বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্যান্টিন পরিচালক বলেন, ‘খাবারের দাম আগের চেয়ে বাড়ার মূল কারণ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি।’

খাবারের মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খাবারের মান আরেকটু বৃদ্ধি করা যেতো। কিন্তু কিছু লোক ফ্রি খেয়ে যায়, টাকা দেয় না। কখনও কখনও তাদের রুমেও খাবার পৌঁছে দিতে হয়।’