মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দুই বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও সমঝোতার কোনও দেখা নেই। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র বার্মা আইন পাস করে, যা মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি দেশের অসংখ্য গণতান্ত্রিক শক্তিকে সমর্থন করে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে ‘বার্মা অ্যাক্ট’-এর প্রভাব শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করেছে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (এসআইপিজি)-এর সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস। বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, এসআইপিজির সিনিয়র ফেলো ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি)- এর স্বাস্থ্য ও শিক্ষামন্ত্রী প্রফেসর জাও ওয়াই সোয়ে, এনইউজি'র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিস থিটসার, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি এইচ.ই. সুফিউর রহমান, এসআইপিজি-এর অধ্যাপক ড. শহীদুল হক, এবং এনএসইউ-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রেমন্ড কুন-সান লাউ।
এসময় সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অ-মারাত্মক সহায়তা ধারার উদাহরণ ব্যাখ্যা করে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংস্থাকে সামরিক সহায়তা দিতে পারে। যা বাংলাদেশের নিরাপত্তাকে দূর্বল করতে পারে। কারণ এই গ্রুপগুলোর সঙ্গে আমাদের দেশে কর্মরত একই বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলোর যোগাযোগ রয়েছে।
প্রফেসর জাও ওয়াই সোয়ে বার্মা আইন পাস এবং মার্কিন সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও তিনি বলেন, এই সমস্যার সমাধান কোনও একক পরাশক্তির সমর্থন নয়, বরং বহুপাক্ষিক প্রতিক্রিয়া বর্তমান সংকট মোকাবেলার আদর্শ উপায়।
তিনি আরও বলেন, এনইউজি আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের একটি জাতিগত গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও পূর্ণ প্রত্যাবাসনের সমর্থন করে।
সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. সুফিউর রহমান বলেন, আরাকান সেনাবাহিনীর উত্থান-ই হল সংঘাতের মূল কারণ। আরাকান সেনাবাহিনীর স্বার্থ না নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
মিয়ানমারে সংঘাত মোকাবেলায় আসিয়ানের বারবার ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করে অধ্যাপক শহীদুল হক বলেন, মিয়ানমারের অসংখ্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের দূর্দশা বোঝার ক্ষেত্রে আসিয়ানের অবহেলা রয়েছে।
ভারত ও চীনের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে রাখাইন রাজ্যের ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে ড. রেমন্ড কুন-সান লাউ বলেন, হাইড্রোকার্বনের বিশাল মজুদ এবং সেইসঙ্গে ভারতকে এর উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগকারী প্রকল্পগুলোর জন্য রাখাইনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি এই রাখাইন রাজ্য চীনের বেল্ট-অ্যান্ড-রোড ইনিশিয়েটিভও (বিআরআই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে ভূ-রাজনীতির বিশেষজ্ঞ ও অনুশীলনকারী, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, সাংবাদিক, এনএসইউ-এর অনুষদ সদস্য এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।