নগরীর খড়গড়ি বাইপাস এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত মূল ক্যাম্পাসে সকাল সাড়ে ১০টায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ পরিবর্তন আনার জন্যে আমাদের গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি ছিল। আর এ কারণে সব ধরনের মানুষের মতামত নিয়ে আমরা নতুন শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছি। শিক্ষকদের সে আঙ্গিকে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা সরকারি কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করি না। তারা সবাই আমাদের সন্তান। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ই নয় মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় বেশির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি। আমরা সরকারি-বেসরকারি আলাদা চোখে দেখি না।
এ সময় মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেছিলেন, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসলে মাদ্রাসা শিক্ষা থাকবে না। কিন্তু আমরা নতুন আরও ৩১ টি মাদ্রাসা অনুমোদন দিয়েছি। একইসঙ্গে স্কুল-মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতেও কোনও বৈষম্য রাখিনি।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জ্ঞান সৃষ্টি, জ্ঞান অনুসন্ধান, সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করবেন। আর যদি তারা সেটা করতে না পারে, তাহলে আমরা কেন এখানে অর্থ দেব। তাহলে তো কলেজই ভালো।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জ্ঞানের পাশাপাশি সততা, নিষ্ঠা, আদর্শবান মানুষ গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। যেখানে নতুন প্রজম্মকে তার মেধা-যোগ্যতা দিয়ে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক দেশে পরিণত করবে। আমরা সেভাবেই তরুণ প্রজম্মকে গড়ে তুলব।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি হাফিজুর রহামানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম সাইদুর রহমান খান, সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দীন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. এম শাহ নওয়াজ আলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম বেগ, ও নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আব্দুল খালেক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওসমান গণি তালুকদার ও ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল হোসেন চৌধুরী।
এর আগে কাজলায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নিয়ে খড়খড়ি বাইপাস এলাকায় আসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সেখানে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরে দুপুর আড়াইটায় দ্বিতীয় অধিবেশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
/এমএনএইচ/