শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবস পালন নিয়ে ধোঁয়াশা

১৫ আগস্টের ছুটি বাতিল হলেও এ দিন জাতীয় শোক দিবস বাতিল করা হয়নি। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এ নিয়ে আছে দ্বিধাদ্বন্দ্বে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শোক দিবস পালন করবে কী করবে না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত গত ৯ জুলাইয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘আমার চোখে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক উপজেলা, সিটি করপোরেশন (ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা), জেলা ও বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে এক মিনিটব্যাপী ভিডিওচিত্র তৈরির প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথা বলা হয়।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচলকদের জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর গত ১৪ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেয়।

এদিকে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৫ আগস্ট সরকারি ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে বর্তমান আন্তর্বর্তী সরকার। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদের সংলাপে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঘোষিত ১৫ আগস্টের সাধারণ ছুটি বাতিল করার বিষয়ে ব্যাপক ঐক্যমত্য হওয়ায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্তক্রমে সরকার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ঘোষিত ১৫ আগস্টের সাধারণ ছুটি এত দ্বারা বাতিল করলো।

এই প্রজ্ঞাপনে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি বাতিল করা হয়নি। ফলে সরকারি আগের আদেশ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকার এবং শোক দিবস পালিত হওয়ার কথা।

রাজধানীর ভিকারুনসিনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ এনাম হোসাইনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। রাজধানীর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীরাই ঠিকমতো আসছে না। তাছাড়া এখন শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা নিরাপদ হবে বলে মনে হয় না।’

রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা মনে করেছি শোক দিবস পালন করা যাবে না। ছুটি বাতিল করা হয়েছে কিন্তু শোক দিবস বাতিল করা হয়নি তা আমরা বুঝিনি। তাছাড়া শোক দিবস সীমিতভাবে হয়তো কেউ কেউ পালন করতে পারে। তবে কোনও আনুষ্ঠানিকতা করার সুযোগ নেই। শোক দিবস পালন করা যাবে কিনা তা নিয়ে সবার মধ্যেই অনিশ্চয়তা রয়েছে।’