সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অনিয়মে অভিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) আব্দুস সামাদের অপসারণের দাবিতে দশম দিনের মতো বিক্ষোভ সমাবেশে উত্তাল হয়ে উঠেছে অধিদফতর অঙ্গন।
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) সকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সামনে চার শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্দোলনে অংশ নেন। ডিজির অপসারণ না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।
সমাবেশে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে ন্যূনতম কোনও ধারণা না থাকা এই কর্মকর্তাকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন এই কর্মকর্তা অধিদফতরের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে তাকে প্রাথমিক শিক্ষার মহাপরিচালকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অনতিবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। মহাপরিচালককে অপসারণ করে একজন শিক্ষাবান্ধব ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে পদায়নের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০ আগস্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে আসেন এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু সভায় মহাপরিচালক তার নির্বাচিত কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে গোপনে সব আয়োজন শেষ করেন। এছাড়া সভায় তিনি তার পছন্দের মাত্র ছয় জন ব্যক্তিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন।
এই ঘটনার পর মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বিতর্কিত, পদলোভী কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে আব্দুস সামাদ মহাপরিচালক পদ ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন কর্মকর্তারা।
নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে প্রধান আন্দোলন সমন্বয়ক মো. আব্দুর রজ্জোক সিদ্দিকী বলনে, ‘আজকের মধ্যে অপসারণ না হলে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরসহ মাঠ পর্যায়ের সব দফতরে মহাপরিচালকে অপসারণের দাবিতে ব্যানার টানানো হবে। ওইদিন এক ঘণ্টার কর্মবিরতি ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করা হবে।’
সমাবেশে অধদিফতরের বিভিন্ন পর্যয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী মহাপরিচালকের অপসারণ চেয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা হলেন পরিচালক নাসিমা বেগম, উপ-পরিচালক আলেয়া ফরেদৌসী, উপ-পরিচালক আব্দুল আলীম, উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক এনামুল হক, সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুস সেলিম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এস এম তকিবুল ইসলাম।
কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক খায়ের আহমদ মজুমদার, সমিতির নেতা মো. আব্দুল হালিম ও শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
গত ২৭ আগস্ট থেকে মহাপরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন-কর্মসূচি শুরু হয়েছে।