সেই অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল সিটি কলেজ

সেই অবৈধ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী নিয়ামুল হকের পদত্যাগ দাবিতে আবারও উত্তাল রাজধানী ঢাকা সিটি কলেজ ক্যাম্পাস। সোমবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বৃষ্টিতে ভিজে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল সমাবেশ করে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন। কয়েক দিন ধরেই কলেজটিতে চলছে অস্থিরতা, প্রায়ই বন্ধ রাখা হচ্ছে ক্লাস ও পরীক্ষা। 

কয়েকজন শিক্ষককে দিয়ে কলেজের ভেতরে শিক্ষার্থীদের মারধর ও নির্যাতন করানোর অভিযোগ তুলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী নিয়ামুল হকের পদত্যাগ দাবি করে শিক্ষার্থীরা।

পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী নিয়ামুল হককে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের ভাইদের যারা রক্ত ঝরালো তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সব পরীক্ষা ও ক্লাস বন্ধ থাকবে। অধ্যক্ষকে কলেজে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী নিয়ামুল হকের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ক্লাস পরীক্ষা হবে না। কারণ শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে, রক্ত ঝরানো হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের একদিন পর ৭ আগস্ট একদল বহিরাগত ছাত্রকে এনে ওই সময়ের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বেদার উদ্দিনকে একটি কাগজে সই করিয়ে নিয়ে পদত্যাগ করানো হয়। একই দিন জোর করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিজ দায়িত্বে চেয়ারে বসে পড়েন অধ্যাপক কাজী নিয়ামুল হক। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, মামলা চলাকালেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন অধ্যক্ষ নিয়োগের। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী নিয়ামুল হক পদত্যাগ করেন। কলেজের আরেক শিক্ষক অধ্যাপক এফ এম মোবারক হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, গত মে মাসে গভর্নিং বডি অবৈধ প্রক্রিয়ায় কাজী নিয়ামুল হককে অধ্যক্ষ হিসেবে মনোনীত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তাব পাঠালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তা অনুমোদন দেয়নি। এ পরিস্থিতিতে গত ১০ জুলাই অধ্যক্ষের পদে নতুন করে বসেন কাজী নিয়ামুল হক। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া একাধিক ছাত্রকে মারধর করান অধ্যক্ষ কাজী নিয়ামুল হক। গত ৮ জুলাই শিক্ষার্থীরা মারধরের শিকার হলে এর প্রতিবাদে কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চলতে থাকে কলেজটিতে।