শিক্ষকদের হয়রানি ও পদত্যাগে বাধ্য করা: শৃঙ্খলা ফিরছে না অনেক প্রতিষ্ঠানে

অধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য করিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিজেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে চেয়ারে বসেন রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক কাজী নিয়ামুল হক। বদলে যায় কলেজের চিরচেনা পরিস্থিতি। গত বছরের ৭ আগস্ট ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বেদার উদ্দিনকে জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে এভাবেই পদ দখল করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার একদিন আগেই ৭ আগস্ট চর দখলের মতো বেদখল হয় অধ্যক্ষের চেয়ার।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের কাছে অভিযোগ করে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন জোর করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে বসা কলেজটির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক কাজী নিয়ামুল হক।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্নীতিবাজ কিছু শিক্ষককে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা পদত্যাগ করতে বাধ্য করলে এই সুযোগ নেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাই।

বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের কাছে অভিযোগ করে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় দুই হাজারের মতো প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও এর প্রকৃত পরিসংখ্যান নেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে।

দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানে পদ দখলের কারণে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরির পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও স্বাভাবিকতা ফিরেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পদ দখলের লড়াই শুরু হয় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠান প্রধানকে হটিয়ে পদ দখল করার চেষ্টা নিয়ে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। অপমানে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়েছেন অনেক শিক্ষক, শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে মারাও গেছেন কেউ কেউ। এই পরিস্থিতির পর বিগত ১০ মাসের বেশি সময়ে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেরেনি। এমনকি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ফেরাতে পারেনি অনেক প্রতিষ্ঠান।

মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জোর করে পদত্যাগ করানোর ঘটনা ঘটেছে বিগত সময়ে। এ পরিস্থিতির কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্যরাও স্বেচ্ছায় চুক্তি বাতিল করে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন।

জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমি এসে দেখছি, অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজগুলোতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নেই। আমি গত কয়েক মাসে পরীক্ষা থেকে শুরু করে অ্যাকাডেমিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মনোযোগ দিয়ে সমস্যার সমাধান করেছি। তবে প্রতিটি কলেজ মনিটরিং করার প্রয়োজন আছে, কলেজগুলো মনিটরিং করার ক্ষেত্রে আমাদের সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে কলেজগুলো মনিটরিং করে সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবো।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মধ্য দিয়ে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সব সময় আমরা নজর রাখছি, সমস্যা নেই।’

স্থায়ী রূপে ঢাকা সিটি কলেজে বিশৃঙ্খলা

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট অধ্যক্ষ বেদার উদ্দিনকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে ওই দিনই চেয়ারে বসে পড়েন আরেক শিক্ষক কাজী নিয়ামুল হক। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে পদে বসে গভর্নিং বডিকে ম্যানেজ করে অধ্যক্ষ হওয়ার চেষ্টা করেন। আরেকজন শিক্ষক এফ এম মোবারক হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে দিয়ে পুরোপুরি অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ অনুমোদন না দেওয়ায় আবার কাজী নিয়ামুল হক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে চেয়ারে বসে পড়েন। এই বিশৃঙ্খলার জন্য গভর্নিং বডিকে দায়ী করেছেন শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, দিনের পর দিন আন্দোলন করে যাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে কাজী নিয়ামুল হককে সরিয়ে দিতে।

এই পরিস্থিতিতে কলেজটিতে বিশৃঙ্খলা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। গত ৯ মাসের বেশি সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষা কার্যক্রম ঠিকমতো চলেনি। মাঝে মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় পরীক্ষা।

সর্বশেষ অধ্যক্ষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপরও নির্যাতন করা হয়। এরপর থেকে নিয়মিত প্রায় বন্ধ থাকছে শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা। শিক্ষার্থীরা পদত্যাগের সময় দিয়েছে। পদত্যাগ না করলে আবার আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী নিয়ামুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। জোর করিয়ে পদত্যাগ করানো অধ্যক্ষ বেদার উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিচয়ে বহিরাগত শিক্ষার্থী ও অপরিচিত লোক নিয়ে এসে পদত্যাগপত্রে সই করানো হয়েছে। আমি প্রাণ বাঁচাতে তাদের দেওয়া কাগজে সই করেছি। অধ্যক্ষকে এভাবে পদত্যাগ করানোর কোনও বিধান নেই। আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করেছি। উচ্চ আদালতে মামলা করেছি, মামলার আদেশ মানেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। জোর করে অধ্যক্ষ নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ছাত্রদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করছেন। ছাত্রদের বর্তমান আন্দোলন যথাযথ বলে আমি মনে করি।

রাজধানীতে জোর করে পদত্যাগের ঘটনা বেশি

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সারা দেশে জোর করে পদত্যাগ করানো, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অপমান করা, লাঞ্ছিত করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই তৎপরতা প্রথমে শুরু হয় রাজধানীতে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা সিটি কলেজ বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। আর আনুপাতিক হারে রাজধানীতে এই ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

রাজধানীতে ঢাকা সিটি কলেজ ছাড়াও লেক সার্কাস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, লালবাগের রহমতুল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, শাহ আলী মহিলা কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ, ঢাকা মডেল কলেজ, সায়েদাবাদ আর কে চৌধুরী কলেজ, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পদত্যাগ করানোর চেষ্টায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়। এসব কলেজের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন পর্যন্ত বিদ্যমান। ফলে এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রমে।

একইভাবে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দনিয়া এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজেও ঘটেছে বিশৃঙ্খলার ঘটনা, এর জের এখনও শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। রাজধানীর সালেহা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিস্থিতি ঢাকা সিটি কলেজের পরিস্থিতির কাছাকাছি, সেখানে চলছে এক পক্ষের খবরদারি।

ঢাকায় মাদ্রাসা ও বাইরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বাদ যায়নি

রাজধানীর শাহ আলী ফাজিল মাদ্রাসা, কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দারুল উলুম আশরাফিয়া মাদ্রাসা, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রাজারভিটা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেরেনি। এমনকি রাজধানীর সরকারি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল কয়েকদিন আগেও।

বরিশালের গৌরনদীর মাহিলাড়া এ এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রাজশাহীর পবার নওহাটা বাগধানী উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ নরোত্তমপুরে ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের মুনশীরহাট কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লার দেবীদ্বার মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা পূর্ব বরইয়া ইএমসি উচ্চ বিদ্যালয় এবং লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা দক্ষিণ জাওরানী আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। একশ্রেণির শিক্ষকদের মধ্যে যেমন হতাশা রয়েছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রয়েছে এক ধরনের ট্রমা।

কুমিল্লার দেবীদ্বার মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী আলমগীর ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মারধরের শিকার হন এবং প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে এক ছাত্র বসে ছবি তোলেন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হরিপদ দাসকে জোর করে পদত্যাগ করানোর চেষ্টার ঘটনায় আট জন আহত হন। এই ঘটনায় পরে একজন মারা যান। এই কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্য এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে অনেকের মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরের হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ এস এম আইয়ুবকে জোর করিয়ে পদত্যাগ করানোর পর তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। মরদেহ স্ট্রেচারে করে হাসপাতাল থেকে বের করা হচ্ছে এমন দৃশ্য ভাইরাল হয়। এই ঘটনার পর থেকেই প্রতিষ্ঠাটিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি এখনও ফেরেনি।

বাদ পড়েনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জোর করে পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। কুয়েটে এখনও পুরোপুরি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

এখনও বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না অনেকেই

বেতন অব্যাহত থাকলেও এখনও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। এর মধ্যে রয়েছেন রাজধানীর লালবাগের রহমতুল্লাহ মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয় গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর। আমি এখনও প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না। তবে সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছি। প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে না।

কলাবাগানের লেক সার্কাস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখনও প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না। আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি বেতন দেওয়া হচ্ছে, তবে প্রতিষ্ঠানের অংশ পাচ্ছি না। আর আমাকে স্বপদে বহালও করা হচ্ছে না।