আসন্ন ঈদুল আজহায় সরকারি ছুটি ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত। তবে সরকারি এই ছুটির মধ্যে ২৩ মে শনিবার সরকারি অফিস আদালত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আগামী ২৩ মে খোলা রাখার নির্দেশ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দেওয়া নির্দেশনার পর শিক্ষক নেতারা ছোটেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে। অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত চিঠি দেন ১০ জন প্রাথমিক শিক্ষক।
লিখিত আবেদনে সই করা শিক্ষক নেতা মানিকগঞ্জ সদরের গোলাম মনির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন নাহার লিপি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “শনিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকলে লাখ লাখ শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা অনিশ্চিত হয়ে যাবে সরকারি বিধান অনুযায়ী। শিক্ষকদের এই বিষয়টির মানবিক বিবেচনায় নেওয়ার জন্য আমরা আবেদন করেছি। মাধ্যমিক বিদ্যালয় আগামী শনিবার (২৩ মে) বন্ধ থাকবে। এইদিন প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার জন্য আবেদন জানিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মহাপরিচালক বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।”
বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস আগামী ২৫ মে (সোমবার) হতে ৩১ মে (রবিবার) পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং আগামী ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রবিবার) অফিসগুলো খোলা থাকবে। উক্ত প্রজ্ঞাপনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এই নির্দেশনার পর সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়। তারা জানান, শনিবার অফিস খোলা রাখার এই নির্দেশনার ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা বঞ্চিত হবেন। সাধারণ শিক্ষকদের শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা নিশ্চিত করতে শনিবার (২৩ মে) বিদ্যালয় বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষক নেতারা লিখিতভবে আবেদন জানান অধিদফতরের মহাপরিচালককে।
লিখিত চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘোষিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত মোট ১২ দিনের গ্রীষ্মকালীন ও ঈদুল আজহা’র ছুটি নির্ধারিত হয়েছে, যা শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা মঞ্জুরের জন্য প্রচলিত একটানা ১৫ দিনের ছুটির বাস্তব শর্ত পূরণ করে না। ২০২৩ সালে ভাতা গ্রহণকারী সব শিক্ষক ২০২৬ সালে পূনরায় আবেদন করতে পারছেন না। এই কারণে অনেক শিক্ষক বাধ্যতামূলকভাবে আরও এক বছর অপেক্ষা করতে বাধ্য হবেন। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে যেসব শিক্ষক অবসর গ্রহণ করবেন তারা বর্ণিত শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে আগামী ২২ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। অতএব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ও মানবিক কারণে আগামী ২৩ মে শনিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।
শিক্ষকদের পক্ষে এই আবেদন করেন— শিক্ষক নেতা মানিকগঞ্জ সদরের গোলাম মনির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন নাহার লিপি, রাজধানী ঢাকার ভাষাণটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম, গুলশানের উজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরীন সুলতানা, ফরিদপুর সদরের হাওলাদার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, গুলশানের উজামপুর সরকারি প্রাথমিক দ্যিালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীমা আক্তার, কেরানীগঞ্জের বালুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শরীফা খাতুন, মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেশমা পারভীন, গুলশানের কাছচকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরশাদুল কবীর, গুলশানের সরকারি তলনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান এবং ভাষাণটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দ মামুন।