প্রশ্ন ফাঁস হলে কঠিন শাস্তি, কোনও ছাড় নায়: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন ফাঁস হতে দেওয়া যাবে না। প্রশ্ন ফাঁস হলে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড বরিশাল অঞ্চলের আওতাধীন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আয়োজনে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, মেধার কোনও বিকল্প নাই, মেধাবী বানাবেন শিক্ষকরা। আমাদের মাত্র যাত্রা শুরু হলো। আমরা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। যেকদিন থাকবো, সিংহের মতো বেঁচে থাকবো। এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করে ছাড়বো।

২০০১ সালের পর আর নকল হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০০৬ সালে নকলের দাফন-কাফন, চল্লিশা খেয়ে আমরা বিদায় নিলাম। পরে দেখা গেলো নকল করোনার মতো ভেরিয়েন্ট বদলে আবার চলে আসলো।

আসন্ন এইচএসসি পরিক্ষার বিষয়ে ড. আ ন ম এহছানুল হক বলেন, এবারের এইচএসসি পরিক্ষায় পুলিশ সদস্যদের বডি অন ক্যামেরা থাকবে। বাইরে থেকে কেউ আক্রমণ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার কোনও বিকল্প চলবে না।

পরিক্ষার খাতা দেখার বিষয়ে তিনি বলেন, এবারে কেউ খাতা দেখার বিষয়টি আইনে যুক্ত করা হয়েছে। খাতা পরিবর্তন করা যাবে না, প্রয়োজন হলে বোর্ড থেকে খাতা নিয়ে যাবো, সেগুলো নিয়ে আমি চেক করবো। এগুলো আমি আইনে রেখেছি।

মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারে এসএসসি পরীক্ষা সুন্দরভাবে হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। আশা করছি, এবারের পরীক্ষাও ভালো হবে, সুন্দর হবে। আমরা পরীক্ষার বিষয়ে প্রশাসনিক সব স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।

তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কী কী করা যায়, শিক্ষকদের কী কী অসুবিধা রয়েছে, প্রতিষ্ঠানে কী কী দুর্বলতা রয়েছে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই আমার এই সফর।

ড. আ ন ম এহছানুল হক বলেন, নকল নামের জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই, এটি শেষ হয়ে গেছে। এখন শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কী কী করা প্রয়োজন সেই কাজগুলো আমরা করছি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যে মামলাগুলোর কারণে আমরা শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারতাম না সেগুলো আদালতের মাধ্যমে এখন হচ্ছে। ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষক নিয়োগের মামলাটি জুলাই মাসের দুই তারিখে হচ্ছে। যেগুলো যুগ যুগ ধরে এত দিন আটকে ছিল। শিক্ষা ব্যবস্থায় যেন আমরা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারি, সে ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন আদালতও। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে শিক্ষা ব্যবস্থা করা দরকার সেটি প্রধানমন্ত্রী করছেন।

মতবিনিময় সভায় আরও ছিলেন– সংসদ সদস্য শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, সিটি কপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।