৫ শতাংশ কর হ্রাসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানোন্নয়নের সুযোগ: ইউজিসি চেয়ারম্যান

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ কর হ্রাসের সরকারি সিদ্ধান্তকে উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা হাব হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তবে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)। বাজেটে  ১০ শতাংশ করহার প্রত্যাহারের কোনও সিদ্ধান্ত না আসায় উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ৫ শতাংশ কর হ্রাস শুধু আর্থিক সুবিধা নয়, বরং উচ্চশিক্ষার গুণগত উন্নয়নের একটি সুযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই অর্থ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দক্ষতা উন্নয়ন, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং মানসম্মত গবেষণায় ব্যয় করবে বলে আমরা আশা করি।

তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও মূলত পাঠদাননির্ভর। শুধু পাঠদান নয়, গবেষণায়ও নেতৃত্ব দিতে হবে। জাতীয় সমস্যার সমাধান এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে মানসম্মত গবেষণার বিকল্প নেই।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি সহায়তা পায় না— এমন ধারণা সঠিক নয় উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, গত অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার জন্য ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেসব গবেষণা প্রকল্প দেশের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, ইউজিসি সেসব প্রকল্পে অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়ন করছে। তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইউজিসি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনও পার্থক্য করে না। জাতীয় উন্নয়নে উভয় ধারার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা হাব হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় গবেষণা রিপোজিটরি এবং সমন্বিত গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে। আমরা এমন একটি গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেখানে গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ, তথ্য সংরক্ষণ এবং একই ধরনের গবেষণার পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ বাড়বে। একইসঙ্গে দেশীয় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা অর্জনের জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমবে বলেও তিনি জানান।

বর্তমান সরকার উচ্চশিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, ইন্টার্নশিপ এবং উদ্যোক্তা তৈরির মতো বিষয়গুলো এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ।

উচ্চশিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশের ৫৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউজিসির মাধ্যমে গবেষণার জন্য ২৩৮ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন প্রকল্পসহ মোট ৮৫২ কোটি টাকা গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে আরও ছিলেন– এপিইউবির সভাপতি মো. সবুর খান, সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন, ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ট্রাস্টি, উপাচার্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।