সব শিক্ষক অনুপস্থিত, তালাবদ্ধ বিদ্যালয়: তদন্তের নির্দেশ 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয় তালাবদ্ধ থাকা এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌহিবুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো ওই চিঠিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে সোমবার (১৭ আগস্ট) শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে আন্দোলন করে। ওই দিন বিদ্যালয়ে কোনও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল এবং জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করা হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৮ আগস্ট থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এর আগের দিন বিদ্যালয়ে কোনও শিক্ষক উপস্থিত না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের এ ধরনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানও ব্যাহত হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের চরম অব্যবস্থাপনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্বে অবহেলার কারণ ব্যাখ্যা করে জবাব দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) বরাবর আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অধিদফতরের চিঠির পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আলাদা চিঠি দিয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে মূল পত্রের আলোকে ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ দায়িত্বে অবহেলার কারণ ব্যাখ্যা করে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।