চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) ব্যবস্থার আধুনিকায়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় কারিগরি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, চীনা ভাষা শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থান, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন এবং গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া গাজীপুরে জাতীয় কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কেন্দ্র এবং মিরসরাইয়ে জাতীয় কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট চীনে উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সফরে দুই দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া অংশ নেন।
যেসব বিষয়ে সহযোগিতা হবে
সফরে চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) মডেল এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু, আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা স্থাপন, চীনা ভাষার সহায়তাসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা চালু এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশে কার্যরত চীনা শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
এছাড়া যৌথভাবে কারিকুলাম উন্নয়ন ও দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ প্রণয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা জোরদার এবং টিভেট ব্যবস্থার আধুনিকায়নে জাতীয় বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পাঁচটি সহযোগিতা কেন্দ্র
সফরের অন্যতম অর্জন হিসেবে ‘তিয়ানগং’ জিয়াংসি কারিগরি শিক্ষা আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি চীন-বাংলাদেশ শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় আন্তর্জাতিক সেবাকেন্দ্র, চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ চীনা ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিন ধাপে বাস্তবায়ন
পরিকল্পনাগুলো ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যায়ে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা ২০২৬: প্রথম ব্যাচের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে চীনা ভাষা শিক্ষা এবং চীনে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের পাইলট কর্মসূচি চালু করা হবে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা ২০২৭: গাজীপুরে জাতীয় কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মিরসরাইকে জাতীয় কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ২০২৮-২০৩০: এই পর্যায়ে বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনার কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, চীনা ভাষা শিক্ষা, জাতীয় পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি।