উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ- ভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে অ্যারাইজ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ–জিসিসি ওয়ার্কফোর্স অ্যান্ড ইকোনমিক আউটলুক: হিউম্যান ক্যাপিটাল অপরচুনিটিজ, মার্কেট প্রসপেক্টস অ্যান্ড দ্য রোডম্যাপ ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপাচার্য।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ অনুষ্ঠানে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক খাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী এই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদি তাদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যায়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ক্যারিয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সফট স্কিল, তথ্যপ্রযুক্তি ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব সংশ্লিষ্ট দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রফতানিকারক দেশ হিসেবে নয়, দক্ষ ও পেশাদার মানবসম্পদের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিশ্বে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে। এজন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠ্যক্রম এবং বাজারের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা এখন অপরিহার্য।
দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে ‘ডিমান্ড-ড্রাইভেন সাপ্লাই চেইন’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে অদক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে পূর্ণাঙ্গ দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে হবে।
এজন্য ‘ডিমান্ড-ড্রাইভেন সাপ্লাই চেইন’ তৈরি করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশের বাজারে যে দক্ষতার চাহিদা থাকবে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ঠিক সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
অভিবাসনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা ভাষাগত দক্ষতা উল্লেখ করে ড. মাহ্দী আমিন বলেন, বিশেষ করে জাপান ও কোরিয়ার মতো দেশে ভাষা জানা থাকলে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ রয়েছে। এজন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পলিটেকনিক ও টিভেট (টিভিইটি) প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা কর্মসূচি যুক্ত করার কাজ চলছে।
জনশক্তি রফতানিতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে এনএসডি (এিএনএসডিএ) এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ লাখ দক্ষ কর্মীর সুযোগ
অনুষ্ঠানে অ্যারাইজ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কানিজ ফাতেমা সংস্থাটির গবেষণালব্ধ তথ্য ও ১০ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
উপস্থাপনায় বলা হয়, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ বাংলাদেশি শ্রমিকই অদক্ষ। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে জিসিসি অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও লজিস্টিকস খাতে প্রায় ২৫ লাখ দক্ষ পেশাজীবীর কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে নীতি-নির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।