স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধের দাবি উঠছে বিশ্বজুড়ে, বাংলাদেশে কী করবে?

বিশ্বজুড়েই স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ কমে যাওয়া, সাইবার বুলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশে এ ধরনের নীতি নেওয়া হয়েছে। ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৪টি দেশে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এটি বিশ্বের মোট দেশের প্রায় ৫৮ শতাংশ।

২০২৩ সালের জুনে এ হার ছিল ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের শুরুতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশে। চলতি বছরের মার্চে তা আরও বেড়ে ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

তবে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর এই নীতিকে বাংলাদেশের বাস্তবতায় কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ দেশগুলোর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ, শিক্ষা ব্যবস্থা, পারিবারিক কাঠামো এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ-সুবিধা এক নয়। ফলে অন্য দেশের সিদ্ধান্ত সরাসরি বাংলাদেশে প্রয়োগ না করে দেশের নিজস্ব বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নিষেধাজ্ঞা

ইউনেস্কোর জিইএম প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বলিভিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, জর্জিয়া, মালদ্বীপ ও মাল্টাসহ কয়েকটি দেশ স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

তবে সব দেশে নিষেধাজ্ঞার ধরন এক নয়। কোথাও স্কুলের পুরো দিনে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ, কোথাও শুধু শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার বন্ধ। আবার কিছু দেশে শিক্ষার প্রয়োজনে, প্রতিবন্ধী বা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ফ্রান্সে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও ৩৯টি অঙ্গরাজ্যে ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি অঙ্গরাজ্যে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা এবং ২৪টি অঙ্গরাজ্যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোকে ফোন ব্যবহারে নীতিমালা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ইংল্যান্ডেও স্কুলের দিনে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করতে বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে স্কুলগুলোর ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা আলাদা

শিক্ষাবিদ, নাট্যকার ও নির্দেশক অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে নিউ মিডিয়াকে অস্বীকার করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রেখে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য।’

তিনি স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করার পক্ষে মত দিয়ে বলেন, অন্তত মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোন না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তবে ‘বন্ধ’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, সেটি স্পষ্ট করা জরুরি। স্কুলে ফোন নিষিদ্ধ হলেও পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং সেটি স্কুল কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে।

মলয় ভৌমিক বলেন, ‘শুধু স্কুলে মোবাইল ফোন বন্ধ করে কোনও ফল পাওয়া যাবে না। পারিবারিক পর্যায়েও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে মা-বাবা নিজেরাই মোবাইল বা টেলিভিশনে আসক্ত থাকেন এবং সন্তানকে ব্যস্ত রাখতে তার হাতে স্মার্টফোন তুলে দেন বা গেম খেলতে দেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের হাতে স্মার্টফোন না দেওয়া এবং মোবাইল গেম ও অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল কনটেন্ট থেকে তাদের দূরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘শিশুদের শুধু পরীক্ষা ও ফলাফলকেন্দ্রিক শিক্ষার মধ্যে রাখলে হবে না। গল্প, কবিতা ও অন্যান্য বই পড়া, ছবি আঁকা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা এবং প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এসব না হওয়ার ফলে শিশুরা ধীরে ধীরে মোবাইলনির্ভর হয়ে পড়ছে।’

শিক্ষার্থীরা এখন মূল পাঠ্যবই বা গল্প-কবিতা না পড়ে মোবাইলে তার সারাংশ খুঁজে নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গুগল বা এআইয়ের মাধ্যমে কোনও গল্প, কবিতা বা চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ও মূল বক্তব্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মূল লেখা না পড়েই খণ্ডিত জ্ঞান নিয়ে বড় হচ্ছে তারা।’

মলয় ভৌমিকের মতে, শুধু খাতায় লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। তাদের কর্মকাণ্ড, সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণও মূল্যায়নের অংশ হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীরা মোবাইল বা এআই থেকে উত্তর নিয়ে আসছে কি না, শিক্ষককে সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

যেসব দেশে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেসব দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা এবং শিক্ষা পদ্ধতি বাংলাদেশের সঙ্গে এক কি না, তা আগে দেখার ওপরও গুরুত্ব দেন মলয় ভৌমিক। তার মতে, বাংলাদেশে সরকারি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজি মাধ্যম ও বিভিন্ন ধারার মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই অন্য দেশের অভিজ্ঞতা সরাসরি প্রয়োগ না করে দেশের নিজস্ব বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে।

শিশুদের বিকল্প সুযোগ দিতে হবে

শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মোবাইল ফোন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অনেক দেশে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও মোবাইল ফোনের ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অভিভাবকেরাও চাইলে এসব কনটেন্ট ব্লক করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘শুধু স্কুলে মোবাইল ফোন বন্ধ করলে হবে না, বাসাতেও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ জন্য অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি দেখেছেন, স্কুলে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বাসাতেও শিশুদের জন্য বিভিন্ন কনটেন্ট ব্লক করে রাখা হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে হলে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করতে হবে।’

রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক সময় সমস্যা চূড়ান্ত পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তাই মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশুদের শুধু দায়ী করে লাভ নেই, তাদের মানসিক বিকাশের বিকল্প সুযোগও দিতে হবে। করোনার সময় থেকে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস বেড়েছে। কিন্তু খেলাধুলার মাঠ, সাঁতার বা বাইরে দৌড়ানোর সুযোগ কমে যাওয়ায় শিশুরা অনেকটাই ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে।’

‘ব্রয়লার মুরগির মতো খাঁচাবন্দি’ শিশুদের জন্য গল্প বলা, ছবি আঁকা, খেলাধুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব বিকল্প তৈরি না করে শুধু মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজ, সব পর্যায়েই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, সমন্বিত উদ্যোগ

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে শ্রেণি চলাকালীন স্মার্টফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যৌক্তিক। করোনা মহামারি ও পরবর্তী সময়ে স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে গেমিংয়ের আসক্তিও বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মোবাইল গেমের আসক্তি থেকে বের করে আনতে পরিবার, বিদ্যালয় ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ, বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো এবং সন্তানের সামনে বাবা-মায়ের মোবাইল ব্যবহারে সচেতন থাকা জরুরি।’

পাশাপাশি স্কুলে বিতর্ক, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান ক্লাব ও আইটি মেলার মতো কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা যেতে পারে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা অন্যদিকে প্রয়োগের সুযোগ পায় বলেও মনে করেন তিনি।

নিষেধাজ্ঞার বদলে ব্যবহারবিধি?

শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এখন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা-নীতি বিষয়। তবে বিষয়টিকে শুধু ‘মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ’ হিসেবে দেখলে পুরো বাস্তবতা ধরা যাবে না। তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে মোবাইল ফোনের পাশাপাশি ল্যাপটপ, আইপ্যাডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস শিক্ষার অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার যে বিস্তার ঘটেছে, তাতে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে স্থানীয় বাস্তবতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন এবং শিক্ষার্থীদের বয়স ও প্রয়োজন বিবেচনায় ব্যবহারবিধি প্রণয়ন করা বেশি কার্যকর হতে পারে। কোথায়, কখন এবং কী উদ্দেশ্যে মোবাইল বা অন্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।’

একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবকে গুরুত্ব দিতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

কে এম এনামুল হক বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশও শুধু নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ডিভাইসের বিভিন্ন ব্যবহার বিবেচনা করে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরির দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও শিক্ষাবান্ধব ব্যবহার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

মোবাইল বন্ধের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশ্নও

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি শুধু একটি ডিভাইস নিষিদ্ধ করার বিষয় নয়। এর সঙ্গে পরিবারে শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের ধরন, শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং দেশের বহুধারার শিক্ষা ব্যবস্থাও যুক্ত।

উন্নত বিশ্বের কোনও দেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, এমন উদাহরণ বাংলাদেশের জন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে। তবে সেই নীতি বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা, পরিবারের সক্ষমতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিই হতে পারে মূল বিবেচনার বিষয়।

ফলে স্কুলে মোবাইল ফোন বন্ধ করা হবে কি না, এই প্রশ্নের পাশাপাশি কীভাবে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ক্ষতিকর ব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায় এবং একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতা শেখানো যায়, সেই প্রশ্নও সামনে রাখার প্রয়োজন রয়েছে।