২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিষয়ভেদে পাসের হারে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে বাংলা ও পদার্থবিজ্ঞানে তুলনামূলক ভালো ফল করেছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞানে পাসের হার কম। তবে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এবারের পরীক্ষায় শুধু ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। এ দুই বিষয়ে মোট ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এটা পুরো ফলের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
বাংলা বিষয়ে কুমিল্লা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। পদার্থবিজ্ঞানে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৯৫ দশমিক ০১ শতাংশ। যুক্তিবিদ্যায় রাজশাহী বোর্ডে ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ পাসের হার পাওয়া গেছে। বিপরীতে ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞানে বোর্ডগুলোর পাসের হার তুলনামূলক কম। ইংরেজিতে বরিশাল বোর্ডে সর্বনিম্ন ৫৪ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং হিসাববিজ্ঞানে একই বোর্ডে ৫২ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
আইসিটি বিষয়ে ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৭৬ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং বরিশালে সর্বনিম্ন ৬৬ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশীয় পয়েন্ট।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বিশেষ কোর্স কারিকুলাম হাতে নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার কমার পেছনে ইংরেজি ও আইসিটির খারাপ ফল বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।