জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাস কোর্সের ১৯ বিষয়ের সিলেবাসে আসছে পরিবর্তন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস) ডিগ্রি প্রোগ্রামের ১৯টি বিষয়ের সিলেবাস যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ) অনুসরণ করে আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই) ভিত্তিক কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপের কাজ আগামী সপ্তাহে শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং প্রতিবছর পাঁচ থেকে ছয় লাখ গ্র্যাজুয়েটের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইন ও বিএডসহ বিভিন্ন বিষয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন এবং অধিভুক্তি-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানেও কাজ চলছে।

কারিকুলাম উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া শিক্ষাবিদদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ের মডেল প্রশ্নপত্র তৈরি এবং আধুনিক সিলেবাস প্রণয়নে কাজ করতে হবে। নানা ধরনের পারিপার্শ্বিক চাপ থাকলেও বৈষম্যহীন ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অঙ্গীকারবদ্ধ। এ উদ্যোগ সফল হলে তরুণ প্রজন্ম প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে কর্মবাজারে প্রবেশ করতে পারবে।’ 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানে অবদানের কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ‘দেশের অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান খাতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের যথাযথ দক্ষতা প্রদান এবং সব অংশীজনের সহযোগিতায় শিক্ষার মান নিশ্চিত করা গেলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সহজ হবে।’ 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পুরো জাতির সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত পরিবর্তন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা খাতের সব অংশীজনকে এগিয়ে আসতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘কারিকুলাম প্রণয়ন, যাচাই ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপই চ্যালেঞ্জিং। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া; রাতারাতি কোনও পরিবর্তন সম্ভব নয়। নিরন্তর চেষ্টা ও পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে প্রচলিত ব্যবস্থার অচলায়তন ভাঙতে হবে। কারিকুলামে সময়োপযোগী বিষয় ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ যুক্ত করা গেলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব হবে।’ 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. আশেক কবির চৌধুরী, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম এবং কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম রুহুল কুদ্দুস। এ ছাড়া ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা সিলেবাস উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন।