আজ বুধবার (১১ মে) বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৪ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্রের উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু সরকারি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। আমি আশা করি দেশের বিত্তবানেরা এ শিল্পের উন্নয়নে এগিয়ে আসবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসা পরিবর্তনের স্বার্থে অনেক হল মালিক তাদের সিনেমা হল ভেঙে ফেলছেন। অথচ এটিকে আরও আধুনিক করলে ব্যবসা ও সুস্থ সামাজিক বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা যায়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশও বটে। দর্শকদের হলে ধরে রাখতে একদিকে যেমন ভালো ছবি নির্মাণ করতে হবে, তেমনি সিনেমা হলের পরিবেশও সুন্দর করা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও শিল্পের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘‘১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তখনকার প্রাদেশিক আইন পরিষদে ‘পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা বিল’ উত্থাপন করে এদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক রচনা করেন বঙ্গবন্ধু। তখন চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা বিল পাশ হয়। সে সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও পল্লী সহায়তা মন্ত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ফলেই আজকের ‘চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা’ এফডিসি’র সৃষ্টি হয়।’’
এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪-এ সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে ‘নেক্কাবরের মহাপ্রয়াণ’। সেরা কাহিনিকার হয়েছেন ‘মেঘমল্লা’র জন্য আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এবং একই ছবির জন্য জাহিদুর রহিম অঞ্জন সেরা সংলাপ রচয়িতা ও সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন। সেরা অভিনেতা হয়েছেন ফেরদৌস ও অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন যৌথভাবে মৌসুমী ও মিম।এবারই প্রথম এই আসরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন ব্যান্ড তারকা জেমস। ফোক শিল্পী মমতাজ ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ ছবিতে ‘নিশি পক্ষী’ গানের জন্য সেরা গায়িকার পুরস্কার পেয়েছেন। একই ছবির জন্য সেরা সংগীত পরিচালক ড. সাইম রানা ও সেরা সুরকার হয়েছেন বেলাল খান।
এবার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে যৌথভাবে সৈয়দ হাসান ইমাম ও রাণী সরকারকে।
২০১৪ সালের অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রয়েছে গীতিকার, শিশুশিল্পী, কাহিনীকার, সংলাপ রচয়িতা, সুরকার, চিত্রনাট্যকার, নৃত্য পরিচালক, শিল্প নির্দেশক, সম্পাদক, চিত্রগ্রাহক, শব্দগ্রাহক, সাজসজ্জা ও রুপসজ্জাকর।
/এস/এমএম/