ফরাসি এমনিতেই সবকিছুতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে। প্যারিস হামলা ও নিসে ট্রাক হামলার কারণে কান উৎসব আয়োজকরাও সব আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রেখেছেন কড়া নিরাপত্তা।
পালে দো ফেস্টিভাল ভবনে প্রতিদিন সকালে ঢুকতে হলে প্রথমে ব্যাজ বা পরিচয়পত্র পরীক্ষা করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ব্যাজের ছবির সঙ্গে মানুষটির চেহারার মিল আছে কিনা পরখ করা হয় সেটাও। পরের ধাপে নিরাপত্তাকর্মীর হাতে ব্যাগ তুলে দিয়ে মোবাইল ফোন, কয়েন, চশমা, চাবি রাখতে হয় ট্রলিতে। এরপর সবুজ সংকেত পেলে ঢোকা যায়। তারপর আবার মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সব পরীক্ষা করেন আরেক নিরাপত্তাকর্মী।
এবার উৎসবের মূলকেন্দ্র পালে দো ফেস্টিভাল ভবনে রাখা হয়েছে ৫০০ নিরাপত্তাকর্মী। এছাড়া শতাধিক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় ভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছেন।
অন্য সব আসরের চেয়ে এবার দেখা যাচ্ছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। নিসের মতো ট্রাক হামলার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেজন্য ভবনের সামনে থেকে দুই পাশে বসানো আছে ৪০০ কংক্রিটের টব। ট্রাক হামলা ঠেকাতে ১৬০ মিটার পর্যন্ত কাঁটাতার ব্যবহার করছে পুলিশ।
বিভিন্ন দেশের প্যাভিলিয়নেও গত দু’বার শুধু ব্যাজ দেখালেই ঢোকা গেছে। কিন্তু এবার পালে দো ফেস্টিভাল ভবনের মতোই নিরাপত্তার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ঢোকা গেছে। মার্শে দ্যু ফিল্ম ও তারকাদের খাবারের স্থান সাজগোজের কর্নারের দিকে যেতে হলেও একই চিত্র।
সবাই যেন নির্বিঘ্নে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার পেছনে প্রচুর টাকা ঢেলেছেন আয়োজকরা। চলচ্চিত্রের এই মহাযজ্ঞের বাজেট শুনলে চোখ ছানাবড়া হয়ে যেতে পারে, ২ কোটি ইউরো!
এত বিপুল অর্থের অর্ধেকই এসেছে ফরাসি করদাতাদের কাছ থেকে। বাকিটা সংগ্রহ করা হয়েছে বহুজাতিক পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমে। লরিয়াল প্যারিস, চপার্ডসহ আরও অনেক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আছে এ তালিকায়। তাদের কাছে যে ধরনা দিতে হয়েছে এমন না, বরং এ উৎসবের অংশ হতে পারলে ধন্য হয় যে কেউ! সিনেমার বৈশ্বিক আসর বলে কথা।
ছবি: আহামেদ ফরিদ
/জেএইচ/এমএম/