একুশে পদক প্রাপ্তির ঘোষণায় তাঁদের অভিমত

সুবর্ণা মুস্তাফা, আজম খান, সুবীর নন্দী, লাকী ইনাম, লিয়াকত আলী লাকী ও খায়রুল আনাম শাকিল

বরাবরের মতো এবারও ঘোষণা করা হয়েছে দেশের জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদকের জন্য মনোনীতদের নাম। যেখানে এবার আছেন সংগীত ও নাট্যাঙ্গনের তিনজন করে ছয়জন শিল্পী।

তাদের মধ্যে আছেন মুক্তিযোদ্ধা-ব্যান্ডশিল্পী আজম খান, আধুনিক-চলচ্চিত্র গানের শিল্পী সুবীর নন্দী ও নজরুলসংগীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল। অভিনয়ে পুরস্কার পাচ্ছেন নন্দিত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা, লাকী ইনাম ও মঞ্চ অভিনেতা-সংগঠক লিয়াকত আলী লাকী।

অনেকের মতে, এবারের একুশে পদক বেশ বিশ্লেষণ করে দেওয়া হয়েছে। যাদের নাম এসেছে, তারা তাদের কাজে ইতোমধ্যেই অনবদ্য মাত্রা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
দর্শক-শ্রোতা বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের এমন ভাবনা উঠে আসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও। প্রশংসায় সিক্ত হচ্ছেন প্রিয় এই মানুষগুলো।
অন্যদিকে বাংলা ট্রিবিউন মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পদকপ্রাপ্ত শিল্পীদের সঙ্গে।
জানতে চাওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রের এমন স্বীকৃতিকে তারা কীভাবে দেখছেন?

এবারের তালিকায় থাকা বিনোদন অঙ্গনের শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে এই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন খায়রুল আলম শাকিল।

তিনি বললেন, ‘নিজেকে মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে এবার অনেকেই এই তালিকাকে সমাদর করছেন। বলছেন, এবার গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে মনোনীত করা হয়েছে। যোগ্যদের সুন্দরভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সে হিসেবে ভাবতে ভালো লাগছে যে আমিও এতে যুক্ত আছি।’
এদিকে সুবর্ণা মুস্তাফা ফেসবুকে বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় এবার আজম খান ভাইকে পদক দেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে পপ সম্রাট আজম খানকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদানের ঘোষণার প্রতিক্রিয়া হিসেবে উচ্ছ্বসিত দেশের আরেক শীর্ষ পপ তারকা ফেরদৌস ওয়াহিদ। আজম খানের সঙ্গে দলবেঁধে সংগীতের লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনিও। এই পপ তারকা বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন এভাবে, ‘খবরটি পেয়ে আমি ভয়ঙ্কর লেভেলের খুশি হয়েছি। আমাদের ফিরোজ সাঁইকে যখন দেওয়া হয়েছে, তখনও ভালো লেগেছে। সেটিও মরণোত্তর ছিল। তবে আজম খান এই পুরস্কারের যোগ্যতা অর্জন করেছেন বহু বছর আগেই। তিনি বেঁচে থাকতে এই সম্মাননা পাওয়া উচিত ছিল বলে আমি মনে করি।’
একুশে পদকের জন্য মনোনীত অভিনেত্রী লাকী ইনাম জানান, ভক্ত ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় রীতিমতো স্নাত হচ্ছেন তিনি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘মজার বিষয় হলো, সকাল বেলা হঠাৎই টেলিভিশনে খায়রুল আনাম শাকিলের গান শুনছিলাম ‘একি অপরূপ রূপে মা’। মুগ্ধ হয়ে আমিও গাইলাম তখন। দুপুরেই খবর পেলাম সেও পদক পাচ্ছে। বিকালে সে ফোন দিয়ে ‘কনগ্র্যাচুলেট’ জানালো। খুবই টেলিপ্যাথি বিষয়। আবার একইভাবে লিয়াকত আলী লাকীর সঙ্গেও কথা হলো। খুবই ভালো লাগছে, এবারের নামগুলো দেখে।’’
এদিকে এই প্রতিবেদন লেখার সময় (বুধবার রাত ৮টা) লিয়াকত আলী শিল্পকলায় ছিলেন। সেখানেই থিয়েটারের লোকজনরা ছোট একটি আয়োজন করেছেন। সে অনুষ্ঠানে লিয়াকত আলীর পাশাপাশি ছিলেন লাকী ইনামও।
অন্যদিকে মুঠোফোনে সুবীর নন্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ৬ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. ফয়জুর রহমান ফারুকী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব পদক প্রদান করবেন। এদিন বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানটি হবে।
পদকপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি পদক, দুই লাখ টাকা, একটি সম্মাননাপত্র এবং একটি রেপ্লিকা দেওয়া হবে।