বড় ভাই, আপনাকে দেখে নার্ভাস লাগছে!

59a997a3c09f176দেশ নিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর অন্যরকম গর্ব ছিল। আমাকে নিয়ে প্রথম যে গানটি করেছিল, সেটিও ছিল দেশের।

হঠাৎ একদিন বললো, ‘ভাইয়া একটা গান করবো, চলেন।’ আমি বললাম, ‘তোমাদের গান কি আমি গাইতে পারবো?’

সে নির্ভয়  দিয়ে বলে, ‘সমস্যা নাই। অবশ্যই পারবেন!’

তখন চমৎকার একটি দেশের গান আমাকে দিয়ে করিয়ে নিলো।

এর কয়েকটি বাক্য এমন—‘স্বাধীনতা তুমি নয় মাস পর দেখা খোলা আকাশ/ তুমি দিয়েছো মুক্তি স্বাধীন জীবন, দিয়েছো মুক্তি নিঃশ্বাস/ অশ্রু নয়, রক্ত দিয়ে তোমাকে পেয়েছি স্বাধীনতা/ এই বুকে আগলে থাকা তুমিই প্রথম ভালোবাসা।’

কী অসাধারণ একটা কম্পোজিশন। আমি খুবই মুগ্ধ হলাম। একজন রক তারকা কাছ থেকে এমন সুর ভাবা যায় না। এটিই ছিল বাচ্চুর গুণ। তার মাথায় সব গানের সুর খেলা করে বেড়াতো। ব্যান্ডের গানগুলোর ভিড়ে সেগুলো হয়তো সেভাবে সামনে আসেনি। কিন্তু অসাধারণ এক সুরকার ছিল সে!

বাংলা গানে তার যে অবদান, এটা ভোলা যাবে না।

বাচ্চু মারা যাওয়ার কিছু দিন আগের একটা ঘটনা বলি। আমাদের ইমার্জেন্সি নম্বর ‘৯৯৯’-এর যখন কাজ উদ্বোধন হলো, তার আগে বাংলাদেশ পুলিশ একটা সভার আয়োজন করেছিল। সেখানে আইয়ুব বাচ্চুও ছিল। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে অসুস্থ। শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। আমি বললাম, তুই এত বড় বড় শ্বাস নিচ্ছিস কেন? সে মজা করে বললো, ‘বড় ভাই, আপনাকে দেখে নার্ভাস লাগছে!’

কী যে সেন্স অব হিউমার। আর সবকিছুতেই মজা করতে পারতো। এভাবেই তাকে শেষ হাসি হাসতে দেখেছিলাম। আমার কাছে সে এখনও হাসিমাখা একটি মুখ।

অনুলিখন: ওয়ালিউল বিশ্বাস