মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে 'বাপজানের বায়োস্কোপ'। অর্ধশত সিনেমা হলে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। প্রথমে ২৫ ডিসেম্বর মুক্তির কথা থাকলেও পরে এক সপ্তাহ এগিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শতাব্দী ওয়াদুদ ও সানজিদা তন্ময়।
ছবিটির পটভূমি যমুনা পাড়ের ‘চর ভাগিনা’কে ঘিরে। চরের মালিক জীবন সরকার আর প্রান্তিক চাষী হাসেন মোল্লাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে কাহিনী। মোল্লার পিতা চরে চরে বায়োস্কোপ দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পিতার মৃত্যুর পর সেই বায়োস্কোপের বাক্সটি ঘরেই পড়ে থাকে। ছাপোষা কৃষক হাসেন মোল্লাকে তবুও ক্ষণে ক্ষণে নাড়া দিয়ে যায় বাবার শেষ স্মৃতি, পোড়ায় মন। একসময় হাসেন মোল্লা ঠিক করে ফেলে সপ্তাহে একদিন করে হলেও সে বায়োস্কোপের খেলা দেখাবে। বায়োস্কোপ বাক্সটি ঝেড়ে মুছে পরিস্কার করে প্রস্তুত করে দূর চরে খেলা দেখাতে যাবার জন্যে। পুরনো ছবিগুলো সময়ের ব্যবধানে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হাসেন মোল্লা এক নতুন কাহীনি ছবিতে আঁকিয়ে নেয়, নতুন রীল বানায়। কিন্তু চরের মহাজন জীবন সরকারের আঁতে ঘা লাগে তাতে। সে ঘোষণা দেয় এই বায়স্কোপ চলবে না, এই খেলা দেখানো যাবে না!
এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস ও মৌটুসী বিশ্বাস। যদিও দুজনে ছবিটি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে একে 'টেলিফিল্ম' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ছবিটির কাহিনি গড়ে উঠেছে এক কর্পোরেট ব্যক্তির যাপিত জীবনের চাওয়া-পাওয়া, বৈষম্য, নিত্যদিনের সমস্যাগুলোকে উপজীব্য করে। তার জীবনের নানা পটপরিবর্তন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে হাস্যরসাত্মক উপায়ে। একটি আইটেম নাম্বারসহ এতে রয়েছে মোট ছয়টি গান। গানগুলোর সংগীতায়োজন করেছেন পৃথ্বীরাজ ও পারভেজ সাজ্জাদ।
ফেরদৌস ও মৌটুসী বিশ্বাসের পাশাপাশি ছবিটিতে আরও আছেন শহীদুল ইসলাম সাচ্চু, প্রাণ রায়, কাওসার আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
/জেডএ/এমএম/