চলচ্চিত্রের পর টিভি শিল্পীদের কল্যাণ তহবিলের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তরাসম্প্রতি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের জন্য কল্যাণ তহবিলের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এবার একই দাবি জানিয়েছেন, টেলিভিশন অভিনয়শিল্পীরা। আজ (৭ ডিসেম্বর) অভিনয় শিল্পী সংঘ তাদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের কথা তুলে ধরেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী সংঘের উপদেষ্টা অভিনেতা মামুনুর রশিদ, সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রাণ রায়।

আয়োজনে বক্তারা করোনাসহ বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে কল্যাণ তহবিল গঠনের আবেদন করেন। লিখিত বক্তব্যে অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম বলেন, ‘বিগত ২৫ বছর ধরে যারা অভিনয়শিল্পকে ও টেলিভিশন নাটককে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, তারা আজ অনেকেই শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। তারা বিপর্যস্ত জীবনযাপন করছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো বা আর্থিক সহযোগিতা করার মতো সরকারি-বেসরকারি কোনও প্রতিষ্ঠান নেই। যারা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টাকে অভিনয়শিল্প তথা নাটকের মধ্যে নিবেদন করেছেন, আজ তারা অসহায়, নিঃস্ব হয়ে জীবনযাপন করছেন। তাদের জীবনের নিরাপত্তা বা জীবনকে বহন করার মতো সক্ষমতা আর তাদের নেই। প্রায় প্রতিটি দেশেই শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য কল্যাণ তহবিল থাকে। আমাদের দেশেও একটি রয়েছে, সেটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিল্পী কল্যাণ তহবিল। কিন্তু সেখানে টেলিভিশন শিল্পীদের ব্যাপারে কোনও উল্লেখ নেই, যদিও সেখানে অভিনয়শিল্পী উল্লেখ আছে। কিন্তু আমরা এই করোনা মহামারিতে লক্ষ করলাম, কোনও মন্ত্রণালয় থেকেই টেলিভিশনের শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য কোনও প্রকার বরাদ্দ দেওয়া হয়নি এবং পাওয়া যায়নি।’

শিল্পী সংঘ জানায়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তারা একাধিক বৈঠক করেছেন এবং তাদের পেশার নিরাপত্তার জন্য অনেক দাবি জানিয়েছেন।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘ডাবিং সিরিয়াল প্রচারে নীতিমালা প্রণয়ন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা বাস্তবায়ন, আমাদের পেশার স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি কল্যাণ তহবিল গঠন এবং টেলিভিশন শিল্পীদের জন্য যে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানে উন্নতকরণের দাবি জানিয়েছিলাম। তথ্য মন্ত্রণালয় আমাদের আশ্বস্ত করেছিল, তারা বিষয়গুলো দেখবে এবং দাবিগুলো সমাধান করবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেসবের কোনও অগ্রগতি লক্ষ করছি না।’

কল্যাণ তহবিলের ধরন কেমন হওয়া উচিত, সে প্রসঙ্গেও ধারণা দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। ৬৫ বছর বয়স্ক শিল্পীদের জন্য মাসিক ভাতা, দুর্ঘটনায় আহত বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিল্পীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা, শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের কারণে কর্মে অক্ষম শিল্পীদের মাসিক ভাতা, কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন বরাদ্দ কিংবা প্রতি অর্থবছরে সরকার কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় এতে।