কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ পরিপূর্ণ একজন মানুষ। আজীবন কণ্ঠটাকে প্রাধান্য দিয়েও তিনি গান রচনা থেকে শুরু করে সুর দেওয়ার কাজটি করে গেছেন নিবিড়ভাবে।
অন্যের কথা-সুরে গাওয়ার বিপরীতে কুমার বিশ্বজিতের নিজের সৃষ্টির সংখ্যা খুবই কম। যদিও সমালোচকদের ভাষ্যে, সংখ্যার চেয়ে তার সৃষ্টিগুলোর গভীরতা অনেক। তারই রেশ থাকছে ‘ভায়োলিনের শহর’ শিরোনামের গানে।
সমরজিৎ রায়ের জন্য গানটির সুর বেঁধেছেন কুমার বিশ্বজিৎ। এটি প্রকাশ পেয়েছে আজই (২০ মার্চ), ইউটিউব চ্যানেলে। গানটির কথা লিখেছেন মিজানুর রহমান সামি। সংগীতায়োজন করেছেন যৌথভাবে রকেট মণ্ডল ও সমরজিৎ রায়।
কুমার বিশ্বজিৎ-সমরজিতের এটি দ্বিতীয় উদ্যোগে। এর আগে দুজনে একটি দেশের গান তৈরি করেছেন।
সমরজিৎ প্রসঙ্গে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘সমরজিতকে আমি আমার পরিবারের একজনই মনে করি। কিন্তু তার শিল্পীসত্তা সম্পর্কে একটু বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। শুদ্ধ সংগীত চর্চা থেকে আমাদের নতুন প্রজন্ম অনেকটাই দূরে। কারণ, অতি সহজলভ্যতা আমাদের ওপর ভর করেছে। যার ফলে চাকচিক্য দিয়ে অতি সহজে যত তাড়াতাড়ি জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় সেটা নিয়েই যেন তারা ব্যস্ত। কিন্তু যে কোনও জিনিষ শিখলে ও জানলে তার গভীরে পৌঁছাতে সহজ হয়। না জেনে চললে বেশি দূর যাওয়া দুরূহ হয়। এ প্রজন্মের যারা শাস্ত্রীয় সংগীতের ওপর দখল রেখে কাজ করছে তাদের মধ্যে অন্যতম সমরজিৎ।’
‘ভায়োলিনের শহর’ সৃষ্টি প্রসঙ্গে এই কিংবদন্তি বলেন, ‘সমরজিতের জন্য এমন একটি গান ভাবছিলাম, যেটার মধ্যে মিষ্টতাও থাকবে আবার শাস্ত্রীয় ব্যাপারটাও। আমার সুরের যথার্থ প্রয়োগ ও সুবিচার সমরজিৎ এই গানটিতে করেছে। সুরকার হিসেবে এটাই আমার বড় সন্তুষ্টির বিষয়। গানটি সবার ভালো লাগবে বলে আমি আশাবাদী।’
এদিকে সমরজিৎ রায় বলেন, ‘দাদা আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন এবং অত্যন্ত প্রিয় মানুষ। তিনি আজীবন আমার পাশে ছায়ার মতো থাকেন, এটি আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। সুরকার হিসেবে দাদা কতটা অনন্য, তা আমাদের অজানা নয়। এই গানে সেটা শ্রোতারা আরও বেশি অনুভব করবেন। আমার পরম সৌভাগ্য যে দাদার সুরে গাইতে পেরেছি।’