গৌরবের পদ্মা সেতু

তবে ফেরিকে মিস করবো: শারমিন সুলতানা সুমি

৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল পদ্মার বুকে একটি সেতু। যে সেতুটি একটি সুতোয় মালা গেঁথে দিলো বাংলাদেশের উত্তর-দক্ষিণ আর পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলকে। সেতুটি সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বাংলাদেশের জীবন ও অর্থনীতিতে। সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদের আশা, শুধু জীবন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, দেশের নাটক ও চলচ্চিত্রের দৃশ্যপটে বৈচিত্র্যের স্বাদ এনে দেবে এই সেতু। বাড়বে কনসার্ট।

পদ্মা সেতু নিয়ে এমনই স্বপ্ন বুনছেন ঝিনাইদহের মেয়ে চিরকুট ব্যান্ডের গায়িকা শারমিন সুলতানা সুমি। যার বেড়ে ওঠাটাও পদ্মার ওপারে, খুলনা শহরে-

সময়টা তখন সম্ভবত ১৯৯১ সাল। নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার জন্য প্রথম ঢাকা যাই। যাই বলছি, এর কারণ হলো আমি এখন খুলনায়। আমাদের বেড়ে ওঠা এখানেই। 

ছোটবেলার পদ্মা আমাদের কাছে যেন আরও বড়, আরও ধৈর্যের পরীক্ষা ছিল। নতুন কুঁড়িতে যখন গেলাম, ফেরিতে ওঠার পর আর পথ শেষ হয় না। যেদিকে তাকাই খালি পানি আর পানি। মনে মনে ভাবতাম, এই পানির দুনিয়া, শেষ হবে কবে? আমার বাবা মো. মকবুল হোসেন দুইবার আমাকে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। দুবারই ভেবেছিলাম, এত পানি কেন? কীভাবে লোকজন এত পথ পাড়ি দেয়!

এরপর যখন শুনতাম পদ্মা সেতু হবে, ঠিক বিশ্বাস হয়নি। কাজ যখন চলছিল তখনও কেমন জানি শোনাতো। প্রতিটি স্প্যান যখন বসতে থাকে তখন বিশ্বাসটা আরও পোক্ত হতে থাকে। আবার মন খারাপ হতো ফেরির কথা ভেবে। এতগুলো লোক কর্মহীন হয়ে যাবে! পরে জেনেছি, ফেরিও চালু থাকবে।

আমি এখন খুলনায় এসেছি গান গাইতে। পুরো চিরকুট। আসার সময় ফেরিতে করে এসেছি। কিন্তু যাবো সেতুর ওপর দিয়ে। সেই অবিস্মরণীয় সময়ের জন্য অপেক্ষা করছি।

তবে ফেরিকে মিস করবো।

এদিকে আমাদের এপারে উৎসব শুরু হয়ে গেছে। প্রতি জেলায় রাস্তায় রাস্তায় মানুষ উৎসব করছেন। সিলেটের বন্যায় ক্ষতিটা না হলে হয়তো সারা দেশে আমাদের অনুভূতিটা ছড়িয়ে পড়তো। 

এই সেতুটা আমাদের জন্য ভালোবাসার সেতু। অনেক কিছুই এখন আমাদের সহজ হয়ে যাবে। চাইলেই যখন ইচ্ছে তখন চলে আসবো। গেয়ে-টেয়ে চলে যাবো আবার ঢাকায়।

অনেকেই আমাকে মজা করে বলেছেন, তাহলে কী কনসার্টে বিশেষ ডিসকাউন্ট থাকবে? আসলে গানটা তো ভালোবাসার জন্য গাই। ভালোবাসায় ডিসকাউন্ট বা ছাড় নয়, এটা বাড়িয়ে দেবো।