মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শান্তি-সম্প্রীতির অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ।
‘সম্প্রীতির সংগ্রামে আমরা’ শীর্ষক এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে আজ (শুক্রবার) থেকে দেশের আট জেলায়, ১৬টি আয়োজনের মধ্য দিয়ে। যা অব্যাহতভাবে চলবে।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতারা এমনটাই জানান।
বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের ছত্রছায়ায় ধর্মান্ধ উগ্রবাদী গোষ্ঠী মাঝে মাঝেই এদেশে মাথাচাড়া দেয়। বিশেষ করে, নির্বাচন সামনে এলে তাদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে হত্যা করার মধ্য দিয়ে যে অপশক্তি মূলত বাংলাদেশকেই হত্যা করতে চেয়েছিল, সেই অপশক্তি নানা রূপে বারবার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মতো ঘৃণ্য অপতৎপরতা চালায় তারা। বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদসহ সংস্কৃতির সব শাখার কর্মীরা এ ধরনের ষড়যন্ত্র, চক্রান্তসহ বাংলাদেশবিরোধী সব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক মো: আহকাম উল্লাহ্। তিনি জানান, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ এই প্রতিপাদ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে দু’শ’ আবৃত্তি সংগঠনের আয়োজনে কর্মসূচির মধ্যে থাকবে- আবৃত্তি ও আলোচনা এবং সংস্কৃতির সব শাখার শিল্পী-কর্মীদের সংহতি পর্বসহ নানা আয়োজন। কর্মসূচির লক্ষ্য সারা দেশে সব প্রজন্মের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোয় সম্প্রীতির বার্তায় উজ্জীবিত করা; উগ্র-ধর্মান্ধ-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সমাজের সব অংশের মানুষের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।
সংবাদ সম্মেলনে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিতব্য কর্মসূচির তালিকা তুলে ধরা হয়। এছাড়াও নড়াইলের কালিয়ায় স্থানীয় জামায়াত নেতার নেতৃত্বে লালনসাধক হারেজ ফকিরকে মারধর করে তার আখড়াবাড়িতে থাকা সংগীতচর্চার অনুষঙ্গ ভেঙে দেওয়ার ঘটনারও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ।
সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রেজিনা ওয়ালী লীনা, যুগ্ম-সম্পাদক আজহারুল হক আজাদ এবং অন্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।